kalerkantho


শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে দুই কলেজছাত্রের জেল

শেরপুর প্রতিনিধি    

২০ মার্চ, ২০১৮ ২২:২২



শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে দুই কলেজছাত্রের জেল

শেরপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ও ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ডেগার মেরে আহত করার দায়ে দুই কলেজছাত্রকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিশু আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোসলেহ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। 

সাজাপ্রাপ্তরা হলো-শেরপুর সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের হাওড়াপাড়া গ্রামের আশেদ আলীর ছেলে মো. আরিফ মিয়া (২২) ও একই গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে লাল চাঁন মিয়া (২০)। 

রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, রায়ে একইসাথে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের উপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হয়। 

তিনি বলেন, আসামিরা অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী হওয়ায় বয়স ও সার্বিক বিবেচনায় আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৪) খ/৩০ ধারায় (ধর্ষণ চেষ্ঠা ও পরষ্পর যোগসাজসের অভিযোগ) সর্বনিন্ম সাজা ঘোষণা করেছেন। 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে পিপি জানান, শেরপুর সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের হাওড়াপাড়া গ্রামের অনার্স পড়ুয়া কলেজ ছাত্র আরিফ মিয়া একই গ্রামের জঙ্গলদী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নানাভাবে উত্যক্ত করত। এক পর্যায়ে প্রেমের প্রলোভনে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাতে ওই স্কুলছাত্রী নিজ বসতঘরে তার ছোট বোনের সাথে ঘুমিয়ে ছিলো। মধ্যরাতে আরিফ মিয়া তার সহযোগী লালচাঁনকে সাথে নিয়ে স্কুলছাত্রীর ঘরের দরজার বান কেটে বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। সে সময় ছাত্রীটি ঘুম থেকে জেগে নিজের শ্লীলতাহানি রক্ষার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আরিফ তার হাতে থাকা ডেগার দিয়ে স্কুলছাত্রীকে আঘাত করে। এতে তার হাত জখম হয়ে আহত হয়। মেয়েটির ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষণ চেষ্টাকারি আরিফ তার সহযোগীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মামা বাদী হয়ে আরিফ ও লালচাঁনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আনছার আলী গত বছরের ১০ জুলাই আদালতে আরিফ ও লালচাঁনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার শিশু আদালতর বিচারক অভিযুক্ত আরিফ ও লালচাঁনকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। 



মন্তব্য