kalerkantho


নেপাল ট্রাজেডির শিকার ফরিদপুরের মাহমুদুর সমাহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর    

২০ মার্চ, ২০১৮ ১২:১৩



নেপাল ট্রাজেডির শিকার ফরিদপুরের মাহমুদুর সমাহিত

জানাজা শেষে নেপাল ট্রাজেডির শিকার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া গ্রামের এস এম মাহমুদুর রহমান রিমনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে তাকে।

সকাল ১০টায় লস্কারদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে আজ ভোরে ঢাকা থেকে রিমনের মরদেহবাহী আ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি  হয়ে ওঠে।

এদিকে, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া রিমনের বাড়িতে গিয়ে রিমনের মা-বাবা ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন  ও সমবেদনা জানান। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক রিমনের মা লিলি বেগমের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। এরপর নগরকান্দার ইউএনও বদরুদ্দোজা শুভ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিলি বেগমকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

জানাজায় ইউএনও বদরুদ্দোজা শুভ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীনুজ্জামান, ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবলুসহ কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। জানাজা পড়ান মাওলানা মো. কামরুজ্জামান। পরে রিমনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লস্কারদিয়া গ্রামের মো. শওকত আলী শরীফ বলেন, রিমন কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে একটি জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই পরিবারের হাল ধরেছিলেন। এখন তার বৃদ্ধ মা ও বাবাকে কে দেখে রাখবে?

লস্কারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিুবর রহমান বাবলু জানান, খুব হাসি-খুশি ও মিশুক ছিলেন রিমন। তার অকাল করুণ মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে ওই পরিবার ও স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন।

নগরকান্দার ইউএনও বদরুদোজ্জা শুভ জানান, অসহায় পরিবারটিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট এক লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে রানার গ্রুপের হেড অব সার্ভিস এস এম মাহমুদুর রহমান রিমন ও তার তিন সহকর্মী নিহত হন।

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের মশিউর রহমানের দুই সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন মাহমুদুর রহমান। সানজিদা বেগম ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন প্রায় সাত বছর আগে। এ দম্পতির কোনো সন্তান নেই। মাহমুদুর রহমানের মৃত্যুতে  গ্রামের মানুষও শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে। 

মাহমুদুর রহমানের চাচা শাহ মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, 'সর্বশেষ গত দুই মাস আগে সে বাড়ি এসেছিল। তিনি জানান, মাহমুদুর ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার উপার্জনে সংসার চলতো। ওই  পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ নেই। সংসার চলবে কীভাবে কে জানে?'     


মন্তব্য