kalerkantho


কক্সবাজার কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নামধারীদের হামলা

তালা ভেঙে অধ্যক্ষসহ ৮ শিক্ষককে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ২৩:১১



কক্সবাজার কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নামধারীদের হামলা

ছবি: কালের কণ্ঠ

ছাত্রলীগ নামধারী উচ্ছৃংখল একদল ছাত্র সোমবার সকালে কক্সবাজার সরকারি কলেজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মুখোশধারীও ছিল। হামলাকারীরা কলেজের অধ্যক্ষসহ ৮ জন শিক্ষককে অফিসে তালা দিয়ে আটকে রেখে ব্যাপক ভাঙচুর ও তান্ডব চালিয়েছে।

হামলাকারীদের ধাওয়ার মুখে কয়েকজন অধ্যাপক পার্শ্বের মসজিদ ও স্কুলে গিয়ে কোনো রকমে রক্ষা পান। এ সময় মুখোশধারী হামলাকারীদের ভয়ে কলেজের ছাত্রীরা আর্তচিৎকার দিয়ে দিকবিদিক পালাতে থাকে। তাদের হাতে নাজেহাল হয়েছেন কয়েকজন অধ্যাপক এবং মারধরে আহত হয়েছেন কয়েকজন ছাত্র।

এদিকে রাস্তা নির্মাণের বিরোধ মিমাংসার বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় একটি বৈঠক হবার কথা রয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজি মো. আবদুর রহমান জানিয়েছেন, সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালত ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে রাস্তা নির্মাণ কাজের ৪ জন শ্রমিককে আটকের পর কাজ বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে গতকাল ছাত্রলীগ নামধারীরা অতর্কিতে ক্যাম্পাসে এমন নৈরাজ্যকর ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে আটক অবস্থা থেকে অধ্যক্ষসহ ৮ শিক্ষককে উদ্ধার করেন।

সেই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানসহ নেতৃবৃন্দ কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের নিবৃত্ত করেন। তবে গতকালের হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নয়-সাধারণ ছাত্ররা কলেজের ১২ দফার দাবিতে আন্দোলন করছিল বলে জানিয়েছে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাকের হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন।

পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সরকারি কলেজের জমি দখলে নিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের ঘটনার জের ধরে গত ক'দিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এমনকি বিতর্কিত রাস্তাটির নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে কক্সবাজার সদর-রামু সংসদীয় আসনের ক্ষমতাসীন দলীয় এমপি সাইমুম সরোয়ার কমল ও তার কনিষ্ঠ বোন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরোয়ার কাবেরি মুখোমুখি অবস্থান নেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সরোয়ার কাবেরিকে নাজেহাল করেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে রাস্তা নির্মাণের পক্ষে অবস্থান ভাই সাংসদের এবং রাস্তা নির্মাণের বিরুদ্ধে বোন কাবেরি শক্ত অবস্থান নেন। রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ করার দাবিতে কাবেরি মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সরোয়ার কাবেরি আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে নিজেকে সম্ভাব্য সাংসদ প্রার্থী বলেও ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেন। সেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় কক্সবাজার সরকারি কলেজ ২ নম্বর সড়ক হিসাবে। এটি নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ না করে প্রকল্প কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কলেজের মালিকানাধীন বিরোধপূর্ণ জমিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে।

এতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধা দেয়। অভিযোগ করা হয়, প্রকল্প কমিটি অনুমোদিত এলাকা বাদ দিয়ে এফাজ উল্লাহ নামের বিএনপি-জামায়াত আদর্শের এক ব্যক্তির বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু করে দেয়। তদুপরি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উক্ত এফাজ উল্লাহর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী রাতের আঁধারে মাটি ফেলে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছিলেন।

রাতের আঁধারে মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণ করার সময় শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলিশ নিয়ে এক অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে আটক করেন। ইউএনও মো. নোমান হোসেন জানান, আটক হওয়া তিনজন শ্রমিককে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৫০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। আটক মোহাম্মদ ইসমাঈল নামের অপর একজনকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এ অভিযানের কারনে বিরোধপূর্ণ জমিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে কক্সবাজার কলেজ ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী আতর্কিতে কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মোহাম্মদ জসিম নামের অনার্স শেষ বর্ষের একজন ছাত্রকে বেদম মারধর করেন। তারা তার মোবাইলসহ অন্যান্য জিনিষও ছিনিয়ে নেয়। হামলাকরীদের ধাওয়ায় মিঠুন চক্রবর্তীসহ আরো কয়েকজন শিক্ষক নাজেহাল হন।

কলেজ অধ্যক্ষ একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী জানান, হামলাকারীরা তিনিসহ ৮ জন অধ্যাপককে তালা দিয়ে একটি রুমে আটকিয়ে রেখে কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর করে। কলেজ ক্যাম্পাসের সিসি ক্যামেরায় হামলাকারীদের সঙ্গে মুখোশধারীদেরও দেখা গেছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।


মন্তব্য