kalerkantho


কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বানিজ্যের অভিযোগ

জলঢাকা(নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ২১:১৬



কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বানিজ্যের অভিযোগ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বানিজ্যে অমুক্তিযোদ্ধার সন্তান পুলিশ বাহিনীতে চুড়ান্ত নিয়োগ পেতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানা পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলাটিতে ১১ জনের পুলিশি তদন্তের তালিকা এসেছে। তার মধ্যে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। 

নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলাটির অসৎ কিছু মুক্তিযোদ্ধা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান কিংবা নাতি/নাতনী দিয়ে কোটা বিক্রি করছে। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলায় পুলিশ বাহিনীতে কনষ্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলার বড়ভিটা ও পুটিমারী ইউনিয়নের দুইজন প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চুড়ান্ত পর্যায়ে টিকে যায়। 

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধির চন্দ্র ও পুটিমারী ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা যতিশ চন্দ্র এমন কাজ করে চলছে। 

সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায়, পুটিমারী ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কনষ্টেবল পদে চুড়ান্ত প্রার্থী নিরঞ্জন রায়, পিতা- সুজুরাম রায়, মা- ভারতী রানী। সে চুড়ান্ত পর্যায়ে টিকেছে বলে জানায়। থানা হতে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন গেলেই আর কোনো সমস্যা নেই। 

নিরঞ্জন রায়ের দাদা বৃদ্ধ সনাতন বর্ম্মন (৭৫) জানান, 'সুজু রামের বিয়ে আমিই দেই। নিরঞ্জন রায়ের নানা বাড়ি পাশ্ববর্তী তারাগঞ্জ উপজেলার বগুলাগাড়ী গ্রামে।’ তিনি পাশের ইউনিয়নের মৃত ঢোডা বর্মনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধির চন্দ্রকে নানা সাজিয়ে চুড়ান্ত নিয়োগ পেতে যাচ্ছে। 

অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কনষ্টেবল চুড়ান্ত তালিকায় নাম উঠাতে যাচ্ছে নিঃসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা যতিশ চন্দ্র। 

এ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধির চন্দ্র বলেন, হ্যা পাশের ইউনিয়নের একজন আমার পরিচয় বহন করছে। এছাড়া বড়ভিটা ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে পুলিশ কনষ্টেবল পদে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়। 

এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের মেলাবর হাজিপাড়া গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে মনিরা বেগমের সাথে মিজানুরের বিয়ে হয়। সে সময় বিয়ের কাজী মিজানুরের নিকট আত্মীয় ছিলেন বলে কাবিননামাটি সংগ্রহ হচ্ছে না। 

তবে মিজানুরের বাবা লুৎফর রহমান বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও সে সময় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ হয়েছিল এবং সালিশে তিনি উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেন। 

অপর দুই প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান আরও বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবুল মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ায় তারা টিকে গেছে। 

অর্থের বিনিময়ে প্রত্যয়নের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবুল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ওয়ারিশন সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে আমি প্রত্যয়নপত্র দেই। কেউ যদি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকেন তার জন্য দায়ী আমি নই। যে যতটুকু পানিতে নামবে, সে ততটুকু ভিজবে। 

কিশোরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশীদ বলেন, তদন্তে যা আসবে-প্রতিবেদনও সেভাবেই যাবে।


মন্তব্য