kalerkantho


সৈয়দপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৮ ১৬:৫৪



সৈয়দপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গলায় ওঁড়না পেচানো অবস্থায় শারমিন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকালে উপজেলার ১ নম্বর কামারপুকুর ইউনিয়নের পূর্ব আইসঢাল নিজ বাড়ি এলাকার মনির উদ্দিনের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে এক সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে হত্যা করে তার মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা। অপরদিকে স্বামীর পরিবারের লোকজন বলছে, আত্মহত্যা করেছে শারমিন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে শারমিন আকতার। প্রায় সাত বছর আগে একই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে শ্রমিক মাহবুল হোসেনের (৩০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সাগর নামে দুই বছরের শিশু সন্তান রয়েছে। 

নিহতের স্বামী মাহবুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার দিন রাতে স্ত্রী শারমিন ও সন্তানসহ ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি দেখেন তাঁর  স্ত্রী পাশে নেই। তখন তিনি স্ত্রীর খোঁজে ঘরে বাইরে বের হন। এর কিছুক্ষণ পরই বাড়ির পাশের একটি গলিপথ দিয়ে স্ত্রী শারমিনকে আসতে দেখেন  মাহবুল। এ সময় স্বামী মাহবুল স্ত্রীর কাছে জাতে চান এত ভোরে কোথায় গিয়েছিলে ?  কিন্তু স্বামীর প্রশ্নের কোনো উত্তর না দেওয়ায় তার হাত ধরে ঘরে আনা হয় শারমিনকে। পরে  স্ত্রীকে ঘরে রেখে তার বড় শ্যালক মাসুদ রানাকে ডাকতে যায় মাহবুল। তাকে নিয়ে এসে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। পরে দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করে তারা দেখতে পায় শারমিন গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছে। 

অন্যদিকে এলাকাবাসী জানায়, ভোর বেলা ঘরের বাইরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় বলে জানতে পেরেছেন। এ সময় সেখানে পড়ে থাকা শারমিনের একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ওই মোবাইল ফোনটি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমানের হোসেনের হেফাজতে রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  মো. রেজাউল করিম লোকমান বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কি হয়েছিল তার পরিবারের লোকজনই বলতে পারবেন। 

তবে শারমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বাড়ির পাশে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

জানা গেছে, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানার উপপরিদর্শক মো. ওয়াদুদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন।  

এ বিষয়ে উপপরিদর্শক ওয়াদুদ জানান, মরদেহের মুখ থেকে লাল ও মূত্র ত্যাগের আলামত পেয়েছেন। তবে এটি আত্মহত্যা না অন্য কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পরই বোঝা যাবে। 

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান পাশা জানান, মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই জানা যাবে।

এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, শারমিনের স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মারপিট করে শারমিনকে হত্যা করেছে। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে। 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শারমিনের স্বামী মাহবুল হোসেন। তিনি বলেন, তার আত্মহত্যার ঘটনার রহস্য পুলিশই বের করবে।

 


মন্তব্য