kalerkantho


কমলনগরে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা

নদীতে বাঁধ দিয়ে ইটভাটার রাস্তা!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

১৮ মার্চ, ২০১৮ ১৪:৫৭



নদীতে বাঁধ দিয়ে ইটভাটার রাস্তা!

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার এলাকায় ভুলূয়া নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে ইটভাটার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে ভাটার মালিক শ্রমিক দিয়ে ওই রাস্তা নির্মাণ করা হয়।

নদীতে বাঁধ দেওয়ায় কৃষি নির্ভর চরকাদিরা ও আশপাশের  এলাকার ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে যে কোনো সময় ভাটা মালিকের লোকজনের সঙ্গে কৃষকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আজ রবিবার উপজেলার রব বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ভাটাসংলগ্ন নদী পারাপারে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। মালিক ইট বিক্রি ও মাটি সরবরাহের জন্য নদীতে বাঁধ দিয়ে নতুন করে রাস্তাটি নির্মাণ করেন। দুই পাড় থেকে মাটি কেটেই নির্মাণ করা হয়েছে ওই রাস্তা। এখান দিয়ে ট্রাক্টর-ট্রলি দিয়ে ইট ও মাটি পরিবহনের পাঁয়তারা চলছে।

রব বাজার এলাকার কৃষকদেরদের অভিযোগ, চার বছর আগে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. আজিজুল হক ফারুক (ফারুক কম্পানি) নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ফসলি  জমির ওপর ইটের ভাটা তৈরি করেন। কৃষকদের জিম্মি করে নামমাত্র মূল্যে আশপাশের ফসলের জমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে নৌকা দিয়ে ইট ও মাটি পরিবহন করলেও এবার নদী বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে পরিবহনের সুবিধার্থে।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুল হান্নান জানান, নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে রাস্তা করায় আগামী বর্ষা মৌসুমে আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে। এতে দুর্ভোগে পড়বে শত শত পরিবার। ডুবে যাবে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। শুষ্ক মৌসুমে পানি চলাচল বন্ধ থাকলে পানির অভাবে সয়াবিন, মরিচ ও তরমুজসহ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইটভাটার মালিক আজিজুল হক ফারুক মোবাইলে ফোনে বলেন, 'আমি কোনো বাঁধ দেইনি।" কে দিয়েছে- জানতে চাইলে মোবাইল ফোন সংযোগ বিছিন্ন করে দেন তিনি।

চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।'

কমলনগর থানার এসআই এ কে এম ছায়েদের রহমান বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ইউএনও-কে অবগত করেছি।'

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আজ রবিবার দুপুরে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। 



মন্তব্য