kalerkantho


সিরাজগঞ্জে তীর সংরক্ষণ বাধে ফের ধস, ৪০ মিটার এলাকা বিলীন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ১৬:৫৭



সিরাজগঞ্জে তীর সংরক্ষণ বাধে ফের ধস, ৪০ মিটার এলাকা বিলীন

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার তীর সংরক্ষণ বাধে ফের ধস নেমেছে। এর ফলে আজ শনিবার ভোর রাত থেকে সকাল ১১টার মধ্যে খাসকাউলিয়া অংশের প্রায় ৪০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে যায়। ধসে যায় পাথরের বোল্ডসহ জিও টেক্স। ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই বাধে শুষ্ক মৌসুমে এমন ধস স্থানীয়দের আতঙ্কে ফেলেছে। 

এলাকাবাসীসহ স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আনিসুর রহমান অভিযোগ করেছেন, নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই কাজ প্রায় সমাপ্তির দিকে যাওয়া বাধটি অব্যাহত ধসের কারণ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র এবং এলাকাবাসী জানায়, চৌহালী উপজেলা সদরের পৌনে ৪ কিলোমিটার এবং টাঙ্গাইলের সোয়া ৩ কিলোমিটার মিলে মোট ৭ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক ১০৯ কোটি টাকার বরাদ্ধ গ্রহণ করে। এই টাকা দিয়ে ভাঙ্গনের রশি টেনে ধরতে নদীর পূর্ব পাড়ের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, শাহজানীর খগেনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজিমুদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় গত ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর তীর সংরক্ষণ বাধ শুরু হয়। যার ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তবে হঠাৎ করে যমুনায় স্রোত হীন শুষ্ক মৌসুমে আজ শনিবার সকালে চৌহালীর খাসকাউলিয়া অংশে প্রায় ৪০ মিটার এলাকা ধসে যায়। বাধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পাথরের বোল্ড ও জিও ব্যাগ। আকস্মিক এই ধসে এলাকাজুড়ে সবার মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তারা অবহিত হয়েছেন। ধসের পরিধি ঠেকাতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছর প্রায় ১৫ বার এমন ভাঙ্গনে পুরো বাধ এখন বিপর্যস্ত। নতুন করে আবার ভাঙ্গন নির্মাণে স্লপিং কাজে অকার্যকর মাটি নিচে ফেলে ব্লক দেওয়াসহ পাথরের চারপাশে ফাকা স্থান গুলো সিমেন্ট দিয়ে পুর্ণ করে না দেওয়ায় পানি ঢুকে তা সাধারণ স্রোতেই সরে গিয়ে এই ধস দেখা দিয়েছে। তাই কাজ নিয়ে অসন্তোষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। 


মন্তব্য