kalerkantho


নেত্রকোনায় বয়স্ক-বিধবা ভাতা আত্মসাতে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী জেলে

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০৪:০৯



নেত্রকোনায় বয়স্ক-বিধবা ভাতা আত্মসাতে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী জেলে

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে সোনালী ব্যাংক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আসামিদের নেত্রকোনা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তাঁদের ইউএনও অফিসে ডেকে আটকে রাখা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন সোনালী ব্যাংক খালিয়াজুরী শাখার জুনিয়র ক্যাশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কারিগরি প্রশিক্ষক শহিদুল ইসলাম এবং একই কার্যালয়ের ইউনিয়ন মাঠকর্মী মামুন উদ্দিন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, খালিয়াজুরীর ছয়টি ইউনিয়নের বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মোট চার হাজার ৭৩৮ জনকে ভাতা দেওয়া হয়। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত উপজেলা সদর ও গাজীপুর ইউনিয়নের ৯৩৮ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়। সোনালী ব্যাংকের খালিয়াজুরী শাখা থেকে টাকা দেওয়া শুরু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে ভাতাভোগীদের টিপসই নিয়ে প্রত্যেককে টাকা কম দেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বয়স্ক ও বিধবাদের ১২ হাজার ৩০০ টাকার পরিবর্তে তঁাদের দেওয়া হয় ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের ১৫ হাজার টাকার বদলে দেওয়া হয় ১৩ হাজার ২০০ টাকা। টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি খালিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছানোয়ারুজ্জামানকে জানানোর পর তিনি এ বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। পরে ইউএনও লোক পাঠিয়ে ঘটনায় জড়িত কর্মীদের ডেকে তাঁর কার্যালয়ে আনান। ওই সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। প্রথমে অস্বীকার করলেও একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা টাকা আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। ওই সময় তাঁদের ইউএনওর কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে চাপের মুখে আত্মসাৎ করা ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ফেরত দেন ওই তিন ব্যক্তি। এর মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ চেকের মাধ্যমে ফেরত দেন পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। শহিদুল ইসলাম নগদ চার লাখ ৯২ হাজার টাকা ফেরত দেন। আর বাকি টাকা নগদে দিয়েছেন মামুন উদ্দিন। পরে বিকেল ৪টার দিকে তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

খালিয়াজুরী থানার ওসি মো. হযরত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ব্যাপারে আটক ওই তিন ব্যক্তির নামে বৃহস্পতিবার রাতেই সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল সকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য