kalerkantho


নেত্রকোনায় সরকারি দুই কর্মকর্তার নেতৃত্বে কোচিং বাণিজ্য

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ১৭:২৯



নেত্রকোনায় সরকারি দুই কর্মকর্তার নেতৃত্বে কোচিং বাণিজ্য

সরকার সারা দেশে সকল প্রকার কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নিলেও কৃষি ডিপ্লোমা পাশকারীদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে তিন মাসের গ্যারেন্টি প্যাকেজের প্রলোভন দেখিয়ে নেত্রকোনায় চলছে ‘উন্মীলন’ নামে একটি কোচিং সেন্টারের রমরমা কোচিং বাণিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওই কোচিং বাণিজ্যটি শুরু করেন নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মরত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিদ্যুৎ মজুমদার ও সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বর্ণী ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু রাসেল খান।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তারা ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সারা দেশ থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে। 
 
আরো জানা গেছে, বর্তমানে জয়নগর সিভিল সার্জন অফিস সংলগ্ন আনন্দ নিকেতন কিন্ডার গার্টেনে এই কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারি এই দুই কর্মকর্তা। কোচিংয়ে বাংলা, ইংরেজী, গণিত ক্লাস পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদেরকেও জড়িত করা হচ্ছে। তাদের ওই কোচিং সেন্টারে বর্তমানে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কোচিং ফি বাবদ ১২ হাজার ৮০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কোচিং সেন্টারে অধ্যয়নরত একাধিক শিক্ষার্থী।

কিন্তু সরকার এসএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে দেশের সকল কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অমান্য করেই কৃষি কর্মকর্তা বিদ্যুৎ মজুমদার ও আবু রাসেলের নেতৃত্বে জেলা শহরে প্রকাশ্যে চলছে এ কোচিং বাণিজ্য। 

সূত্র জানায়, ‘উন্মীলন’ নামে এই অবৈধ কোচিং সেন্টারটির কার্যক্রম জেলা শহরে প্রকাশ্যে পরিচালনা করার দায়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিদ্যুৎ মজুমদার ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু রাসেল খানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ করেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ আহমেদ ভূইয়া। এরই প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল খামারবাড়ীর জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ মতিউজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা এ অবৈধ কোচিং সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধ করছেন না।  

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্ত দুই উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক অন্যত্রে বদলি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি ঢাকা খামারবাড়ীর কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য