kalerkantho


লাকসামে সংঘর্ষে জড়াল ছাত্রলীগ, পুলিশসহ আহত ১০

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:৩১



লাকসামে সংঘর্ষে জড়াল ছাত্রলীগ, পুলিশসহ আহত ১০

কুমিল্লার লাকসামে একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে পুলিশের এক এএসআই'সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারের নোয়াখালী রেল গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় অনেক দোকানপাট।

উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত ঝামেলা নিয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় লাকসাম পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ও ফরহাদের সঙ্গে পৌরসভার গাজিমুড়া গ্রামের আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর রফিকুল ইসলামের ছেলে লাকসাম পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি কাউসারসহ উত্তর বাজারের ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা নোয়াখালী রেলগেইট এলাকায় এলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব খান তার লোকজন নিয়ে আমির হোসেনের পক্ষ নেয়।

এ সময় শিহাব খানের নেতৃত্বে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাদের ওপর হঠাৎ হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।

এ সময় দুই পক্ষের রোষানলে পড়ে লাকসাম থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আবু ইহসাক আহত হন। পরে পুলিশের সদস্যরা লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দু'দিকে পাঠিয়ে দেয়। সংঘর্ষে ওই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের লাকসাম সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অপর আহতদের নাম জানা যায়নি।

লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিহাব খান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমির হোসেন আমার গ্রামের লোক। আর সে ঝামেলা থামাতে গেলে হুমায়ুন ও ফরহাদদের আঘাতে তার নাক ফেটে যায়। এতে গাজিমুড়া গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়লে দুই পড়্গের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আর আমি গিয়ে পুলিশসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে যারাই এমন কথা বলেছেন, তা মিথ্যা। এ ছাড়া এটা কোনো দলীয় বিষয় নয়।

এদিকে, ঘটনার পর এ বিষয়ে জানতে লাকসাম শহরের উত্তর বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ও ছাত্রলীগ নেতা কাউসারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে হুমায়ুন ও ছাত্রলীগ নেতা কাউসারের চাচাতো ভাই লাকসাম পৌরসভা যুবলীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. শাহীন বলেন, রফিকুল ইসলাম, হুমায়ুনসহ অপর আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। তবে পরে এসে যেটুকু জেনেছি শিহাব খান (হামলায়) ছিল।  

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ কালের কণ্ঠকে বলেন, দুই এলাকার লোকদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষের লোকদের দু'দিকে সরিয়ে দিয়েছে। এ সময় এএসআই আবু ইহসাক আহত হয়েছেন। আর ঘটনাটি দলীয় কোনো বিষয় নিয়ে ঘটেনি। তবে দুই পক্ষের লোকজন ছাত্রলীগের ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।



মন্তব্য