kalerkantho


কাজে উৎসাহ যোগাতে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের নিয়ে বনভোজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:১৮



কাজে উৎসাহ যোগাতে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের নিয়ে বনভোজন

ছবি: কালের কণ্ঠ

সারা বছর শুধু কাজ নয়, শ্রমিকদের জীবনে একটু চিত্ত-বিনোদনও প্রয়োজন- এই বিষয়টি অনুধাবন করে রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় রপ্তানিমুখি একটি তৈরি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ উৎপাদন কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বনভোজনের আয়োজন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া বটতলা এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গ্রুপের 'দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড' কারখানার প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক এ বনভোজনে অংশ নেন।

এই কারখানাটির মালিক হলেন- গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা সিটি করপোরেশন (ঢাকা উত্তর) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
মূলত তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কর্মকাণ্ডে শ্রমিকদের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কারখানাটির পাশেই জামগড়া এলাকায় বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডমে মনোরম পরিবেশে এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। বনভোজনে শ্রমিকদের জন্য দুপুরের খাবার হিসেবে ছিল- খাসির কাচ্চি, মুরগীর রেজালা ও কোমল পানীয়। নৈমিত্তিক পোশাক বাদ দিয়ে সাধ্যমতো একটু সাজগোজ করে নারী-পুরুষ উভয় শ্রমিকরাই পুরো দিনটা হৈ চৈ করে নেচে-গেয়ে অনাবিল আনন্দ উপভোগ করেন।

রেহেনা বেগম নামে একজন নারী পোশাক শ্রমিক জানান, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে তাঁরা কাজে বের হয়ে ঘরে ফেরেন গভীর রাতে। কখনো একটু আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের এই অবস্থাটা বিবেচনা করে একটি দিনের জন্য ব্যতিক্রম ধরনের এ আয়োজনে তারা ব্যাপক আনন্দ পেয়েছেন এবং সারাদিন আনন্দে কেটেছে তাঁদের। শ্রমিক পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এবং আশেপাশের লোকজনও কারখানা কর্তৃপক্ষের এ আয়োজনের প্রশংসা করেছেন।

দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সাধন কুমার দে বলেন, পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা সারা জীবনে শ্রমিকরা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করেন। ভোর বেলা সামান্য নাস্তা মুখে গুজেই তারা দায়িত্ব পালনে কারখানায় ছুটে আসে। আর বাসায় ফিরে রাতের বেলা। তাই স্বাভাবিক কারণেই তাদের চিত্ত-বিনোদনের কোনো সুযোগ থাকে না। আর সে কারণেই অনত্মত একটি দিনের জন্য শ্রমিকদের বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যে কারখানা কর্তৃপক্ষের এই বনভোজনের আয়োজন। এ ছাড়া শ্রমিকদের বিনোদন দিতে পারলে তারা উৎপাদনে ও মান সম্পন্ন পোশাক তৈরিতে আরো অবদান রাখতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

বনভোজনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কারখানার মহাপরিচালক আতিকুল ইসলাম, পরিচালক শাকিল আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মনোয়ার হোসেন, তৌফিক জাহিদুর রহমানসহ আরো অনেকে। বনভোজন শেষে বিকেলে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।



মন্তব্য