kalerkantho


ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি দবিরুলের বাসভবনে ডাকাতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ২২:৪৭



ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি দবিরুলের বাসভবনে ডাকাতি

ঠাকুরগাও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের বালিয়াডাঙ্গীস্থ বাসভবনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বেশ কিছু মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের রংপুর বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি আব্দুল মজিদ। এছাড়া পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) ও সিআইডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেন। পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তাদের দাবি খুব শীঘ্রই ডাকাতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।

এমপি দবিরুলের ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জানান, ডাকাতরা ১৪ থেকে ২০ জনের দল হতে পারে, বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তা জানা গেছে। ডাকাতদের মুখ ঢাকা ছিলো তাই তাদের চেনা যাচ্ছে না। ডাকাতরা বাসার ৮টি রুম তছনছ করেছে। এমপির অসুস্থ স্ত্রী মোমিনা খাতুনের কাছে ডাকাতরা চাবি চাইলে তার কাছে চাবি নাই বলে জানান তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার গলার চেইন ও হাতে থাকা স্বর্ণের বালা খুলে নেয়। পরে ডাকাতরা আলমিরাসহ বিভিন্ন ড্রয়ার ভেঙ্গে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট করে। বাড়িতে এমপির অসুস্থ স্ত্রী মোমিনা খাতুন ছাড়া পরিবারের আর কেউ না থাকায় এর পরিমাণ কতো তা এখনো বলতে জানা যায়নি। 
তিনি আরো জানান, আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম এমপি তিনি তার চিকিৎসাজনিত কারণে দুই ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ও মোমিনুল ইসলাম সুমন বিদেশে (থাইল্যান্ড) অবস্থান করছেন। 

এমপির বাসায় থাকা নৈশ্য প্রহরী দবিরুল ইসলাম ওরফে দারাজু জানান, তিনি রাত আড়াইটার সময় কুকুরের চিৎকার শুনে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের কাছে যায় এবং সেখানে কেউ তার ওপর পানি ছিটিয়ে (স্প্রে) দেয়। এতে কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে তার রুমে গিয়ে শুয়ে পরেন। এর পরে সকালে বাসার কাজের মেয়েরা তাকে ডেকে তুলেন এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। 

বাসার কাজের মেয়ে হনুফা ও হাসি জানায়, ডাকাতরা প্রথমে দরজায় জোড়ে জোড়ে লাথি মেরে তাকে দরজা খুলতে বললে তারা দরজা খুলে দেয়। পরে ডাকাতরা ঘরে ঢুকে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং চুলের মুঠি ধরে মারপিট করে। এ সময় ডাকাতরা এমপির স্ত্রীর কাছে চাবি চায়, তিনি চাবি না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে তারা একের পর এক রুমে ঢুকে তছনছ করে লুট করতে থাকে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমার জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টহল জোড়দার করে। এ সময় উপজেলার লোলপুকুরের পশ্চিম পাশে এক বাঁশঝাড়ে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত সাবল, গহনার বাক্স, কাপড়ের মুখোশ, ককটেলসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ডাকাতরা ডাকাতি শেষে চলে যাওয়ার সময় একটি ককটেল ফুটায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের রংপুর বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি আব্দুল মজিদ ও ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আখতারুজ্জামান। এ সময় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ, সিআইডি এএসপি আরিফ আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লালন দেওয়ান আহমেদসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

রংপুর বিভাগীয় এডিশনাল ডিআইজি  আব্দুল মজিদ জানান, এ ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন টিম কাজ করছে। তদন্তের সার্থে সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং এখনি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শীঘ্রই ডাকাতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



মন্তব্য