kalerkantho


নাসিরনগর উপ-নির্বাচন

নিরুত্তাপ ভোটেও জাতীয় পার্টির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ২২:১৮



নিরুত্তাপ ভোটেও জাতীয় পার্টির অভিযোগ

নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজোওয়ান আহমেদের সঙ্গে পুলিশ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডার বিষয়টি ভোটের দিনে ‘ভিন্ন মাত্রা’ যোগ করে। এছাড়া আশুতোষ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক মাহবুবুর রিপনের ওপর চড়াও হন যুবলীগের এক নেতা। কোথাও কোথাও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠলে একাধিক শিশুকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভোটের দিনে উত্তাপ বলতে এই দুই-একটি ঘটনা। জাপা প্রার্থী রেজোওয়ান আহমেদ অবশ্য বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করার অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে করেন। তিনি পুননির্বাচন দেয়ারও দাবি তুলেছেন। 

আজ মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট শুরুর সময় থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ওই সময় পর্যন্ত কয়েকটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৪৫ ভাগের মতো ভোট পড়ে বলে ধারণা পাওয়া যায়। কেন্দ্রগুলো বেশিরভাগ সময়ই ছিল ফাঁকা। কিছু কেন্দ্রে নারী ভোটারদেরকে ছোট ছোট লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যায়। পুরুষ ভোটারদের তেমন কোনো লাইন চোখে পড়েনি। তবে নির্বাচনকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ তৎপর ছিল। এদিকে ১৫টি কেন্দ্রের কোথাও ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থীর কোনো পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি।   

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, জাতীয় পার্টি থেকে রেজওয়ান আহমেদ ও ইসলামী ঐক্যজোট থেকে আবুল কাসেম মোহাম্মদ আশরাফুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

সরেজমিনে ঘুরে আরো দেখা যায়, বেলা সোয়া ১টা নাগাদ প্রয়াত মৎস্য মন্ত্রীর নিজ গ্রাম পূর্বভাগের এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩৭৩৯ ভোটের মধ্যে ১৫৬৬ ভোট পড়ে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীর বাড়ি সংলগ্ন ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা দেড়টা নাগাদ মাত্র ৫০ ভাগের মতো ভোট পড়ে। এছাড়া তুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সূচিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ অন্যগুলোতে ঘুরে ভোটার উপস্থিত খুব কম থাকতে দেখা যায়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ভোটার উপস্থিতি একটু কম হলেও সর্বত্রেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

হরিপুর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শামছুজ্জামানও ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সকলের তৎপর থাকার বিষয়টি অবহিত করেন।  

এদিকে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় খুশি ছিলেন ভোটাররাও। ভোট দিয়ে আসা বেরুইন গ্রামের বৃদ্ধ হোসেন আলী বলেন, ‘ভোট দিতে কোনো সমস্যা অইছে না। গেছি আর ভোট দিয়া আইয়া পড়ছি।’ দুই শিশুকে কোলে নিয়ে কুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তুষার মিয়া বলেন, ‘দুই ভাবী ভোট দিতে গেছে। এর লাইগ্যা আমি ভাতিজীদের কোলে লইয়া দাঁড়াইয়া আছি।’ রুবিয়া আক্তার বলেন, ‘বাড়িত গিয়া কাম কাইজ করতে অইব দেইক্কা তাড়াতাড়ি বোট দেলাইছি।’ 

অপরদিকে ভোটারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন কারণে মাত্র কয়েক মাসের জন্য সংসদ সদস্য করার বিষয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে খুব একটা আগ্রহ ছিল না। আভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও স্বতস্ফূর্তভাবে সেখানে কাজ না করায় ভোটারদেরকে সেভাবে কেন্দ্রে আনতে পারেননি। জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থাও খুব ভালো না থাকায় তারাও পিছিয়ে ছিলেন। তবে সবারই চোখ ছিল বিএনপির ভোটারদের দিকে। কিন্তু ভোটের দুইদিন আগে থেকে পুলিশের বিভিন্ন তৎপরতার কারণে বিএনপি সমর্থিত ভোটাররাও সেভাবে মাঠে নামেননি।  

উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। 

জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১৪ হাজার নয়জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ১০ হাজার ৪১০ জন ও নারী ভোটার এক লাখ তিন হাজার ৫৯৯ জন। 



মন্তব্য