kalerkantho


ভোলায় বাণিজ্যমন্ত্রী

কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে কিছু করার নাই

ভোলা প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৫৪



কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে কিছু করার নাই

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক। যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিংবা সহায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখেন তাদের সেই স্বপ্ন কোনো দিন পূরণ হবে না। সংবিধান অনুসারে এই সরকারের অধিনেই নির্বাচন হবে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যে রকম নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেই রকম নির্বাচন হবে। 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার শিবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন তিনি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধিনে। প্রধানমন্ত্রী থাকবেন শেখ হাসিনা। অন্তর্বতীকালীন সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন হবে অবাদ এবং নিরপেক্ষ। কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আমাদের কিছু করার নাই। 

বিএনপি শাসনামলের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের ওপর অনেক অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। তারা গবাদী পশু জবাই করে খেয়েছে। লালমোহনে পানির মধ্যে ঝাপ দিয়ে গর্ভবতী মাও সম্ভ্রম রক্ষা করাতে পারেন নি। 

তিনি আরো বলেন, বোরহানউদ্দিনে আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমাকে রক্তাক্ত করেছে। আমার বাড়িতে হামলা করেছে। আমি বোরহানউদ্দিন যাবার পথে বোমা মেরেছে, গুলি করেছে। একটি খুনের মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। আমাকেসহ আমার আত্মীয় স্বজনদেরকে আসামি করা হলো। অথচ যে মারা গেছে তাকে আমি চিনিও না। আমি একজন মন্ত্রী ছিলাম। অথচ কাশিমপুর কারাগারে আমাকে ফাঁসির আসামির মত ফ্লোরে রাখা হলো। কাশিমপুর কারাগার থেকে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হলো। যাওয়ার পথে ফেরিতে দেখি গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছে। পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কার গাড়ি ? বলা হলো এটা সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদীর গাড়ি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আমার হাতে হাতকরা আর রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদী তার গাড়িতে পতাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ৩৩ মাস আমি জেলে ছিলাম। তিন মাস সূর্যের আলো দেখিনি। এরশাদের আমলে আমাকে জেলে নেওয়া হলো। প্রথম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আমাকে কারাগারে নিয়েছে। আবার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আমাকে আবারও কারাগারে পাঠিয়েছে। আমার ও আমার নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার, নির্যাতন করা হয়েছে। বিএনপির আমলে আমার একজন কর্মীকে মারতে পারলে বিএনপি কর্মীকে ২ টন গম দেওয়া হতো। আমার নেতাকর্মীরা কেউ এলাকায় থাকতে পারেনি। বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। এই বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসলে পারলে কাউকে বাড়িঘরে থাকতে দিবে না। 

ভোলার বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত কোনো সরকারের আমলেই ভোলার নদী ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভোলা নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। মেঘনার ভাঙনরোধে ২ হাজার কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। এই ইউনিয়নে ২০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নতুন রাস্তা, ১৮ কিলোমিটার রিপারিং, ৪টা প্রাইমারি স্কুল, একটি সাইক্লোন সেল্টারসহ অসংখ্য কালভার্ট, ব্রিজ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: সেলিমের সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মোশারেফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইউনুস, মইনুল হোসেন বিপ্লব, শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, সদর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম প্রমুখ। 



মন্তব্য