kalerkantho


কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনা

নিহত প্রকৌশলী রকিবুলের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

সিরাজগগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ১৭:২২



নিহত প্রকৌশলী রকিবুলের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত প্রকৌশলী রকিবুল হাসানের (২৯) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত রকিবুল সিরাজগঞ্জের নদী ভাঙ্গন কবলিত চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিনানই গ্রামের মৃত: রবিউল করিমের ছেলে। 

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে রকিবুলের গ্রামের বাড়ি বিনানই-এ গিয়ে দেখা যায়, তার মৃত্যুর খবর টিভিতে দেখার পর থেকে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে স্বজনরা। রকিবুলের বড় চাচা তার ভাইপোর মৃত্যুতে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। এলাকার নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধরা ছুটে এসেছেন রকিবুলের স্বজনদের শান্তনা দিতে। কিন্তু স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। শোকে বিহহ্বল গোটা চৌহালীজুড়ে।                   

রকিবুলের দুই চাচা জানে আলম ও নাসির উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, আমাদের বংশের প্রদীপ ছিল রকিবুল। তার মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছি না, খুব কষ্ট হচ্ছে। রকিবুল ছোট বেলা থেকেই ছিল ভ্রমণ পিপাসু ও অত্যন্ত মেধাবী। এ চরের ধুলো বালিতে মিসে বড় হলেও ছিল অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম। কোনো বিষয়েই কখনই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে সব ক্লাসেই ছিল ফাস্ট বয়। 

এদিকে যমুনা চরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রকিবুলের বেড়ে ওঠা সম্ভুদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, রকিবুল ছোট বেলা থেকেই মেধাবী ছিলো। স্কুলের সব ক্লাসেই প্রথম স্থানে ছিল। এলাকার সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সম্ভুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী জানান, ১৫ দিনের ছুটিতে রকিবুল তার স্ত্রী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষিকা ইমরানা কবির হাসিকে সাথে নিয়ে নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। বিমানটি বিধস্ত হওয়ার পর তারা জানতে পারে রকিবুল হাসান মারা গেছে। স্ত্রী ইমরানা কবির হাসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, রকিবুল বিদেশি একটি সফটওয়্যার কম্পানিতে ঢাকায় চাকরি ও মিরপুরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তবে সবশেষ গত বছরের বন্যার সময় রকিবুল ও তার স্ত্রী এলাকার মানুষের জন্য নিজেদের তহবিল থেকে সহযোগিতা করেন।



মন্তব্য