kalerkantho


শিক্ষকের বেত্রাঘাতে দেওয়ানগঞ্জে ১০ ছাত্র-ছাত্রী আহত

জামালপুর প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৮ ২৩:১৭



শিক্ষকের বেত্রাঘাতে দেওয়ানগঞ্জে ১০ ছাত্র-ছাত্রী আহত

ছবি: কালের কণ্ঠ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে এ রব আলিম মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল্লাহ মজনুর বেত্রাঘাতে ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আগের দিন বুধবার টিফিন পিরিয়ড ফাঁকি দেওয়ার কারণে তাদেরকে বেত্রাঘাত করা হয়। আহত ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ওই শিক্ষককে মাদরাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে।

মাদরাসা একটি সূত্র জানায়, এ রব আলিম মাদরাসার দাখিল শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বুধবার দুপুরে টিফিন পিরিয়ডের পর আর ক্লাসে ফিরে যায়নি। এ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালের প্রথম ক্লাসে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দাখিল শাখার সহকারী শিক্ষক সায়েদা ইয়াসমিন ওই ছাত্র-ছাত্রীদের সতর্ক করেন যাতে আর কোনোদিন তারা ক্লাস ফাঁকি না দেয়। কিন্তু মাদরাসার আলিম শাখার সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল্লাহ মজনু তা মানতে রাজি নন। ক্লাস ফাঁকি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দাখিল ক্লাসে গিয়ে ওই সহকারী শিক্ষকের সামনেই ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে সজোরে বেত্রাঘাত করতে থাকেন। বেত্রাঘাতের এক পর্যায়ে কয়েকজন ছাত্র মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এতে ১০-১২ জন ছাত্র-ছাত্রী গুরুতর আহত হয়। এ সময় মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে আহত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্ধার করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়। বেত্রাঘাতে আহতরা হলো- সোউরফ হাসান, যায়েদ সাইফুল্লাহ ফাহিম, সুহান, মাহফুজুর, তানজীনা, আকলিমা আক্তার, করিফুল, ইয়াসমিন ও শীলা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে আহত ছাত্র-ছাত্রীরা চিকিৎসা নিয়ে তাদের বাড়িতে ফিরে গেছে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা মাদরাসায় গিয়ে সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল্লাহ মজনুকে ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতকারী সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল্লাহ মজনুকে উদ্ধার করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন।

এদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের বেত্রাঘাত করার ঘটনাটি ধামাচাপ দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তদবির চালাচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলীও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেননি।

দেওয়ানগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুল লতিফ মিয়া রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল্লাহ মজনুর বেত্রাঘাতে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহত হওয়ার কথা শুনেছি। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ইউনুস আলীর সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু বেত্রাঘাতে ছাত্র-ছাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।



মন্তব্য