kalerkantho


শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৩৪



শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরের খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা ফকিরপাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যুর একদিন পর এক ব্যক্তির লাশ দাফন করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে উপজেলার ২-নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের হাজারীহাট পাকাধরার পূর্বপাড়ায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। 

নিহত ব্যক্তির নাম আবু কালাম (৩৫)। সে উপজেলার ২-নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের হাজারীহাট পাকাধরা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রহিম উদ্দিনের ছেলে। গত ১০/১২ বছর আগে একই উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা ফকিরপাড়ায় মতিয়ার রহমানের মেয়ে মোছা. তানজিলা বেগম ওরফে তানজি'র (২৯) সাথে বিয়ে হয়। ওই দম্পতি দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। আবু কালাম পেশায় ছিলেন একজন ফেরিওয়ালা। 

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  আবু কালাম গ্রামে গ্রামে ফেরি করে চুঁড়ি, ফুল-ফিতাসহ বিভিন্ন কসমেটিকস বিক্রি করতেন। গৃহবধূ তানজি গত ৭/৮ দিন আগে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এদিকে, আবু কালাম গত শুক্রবার শ্বশুর বাড়িতে যান। রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে স্ত্রীকে নিয়ে যথারীতি শ্বশুর বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। 

পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল হাকিম। 

তিনি জানান, নিহতের শরীরে মেরে ফেলার কোন রকম দাগ, আঘাত কিংবা আলামত পাওয়া যায়নি। তারপরও যেহেতু শ্বশুর বাড়িতে রাতে বেলায় ওই ব্যক্তি মারা গেছেন; তাই সন্দেহ হওয়ায় এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, লাশের ময়না তদন্ত শেষে যথাযথ নিয়ম মেনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর কর হয়।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তির মৃত্যুকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তারা অভিযোগ করেন শ্বশুরবাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা লিখিত অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও পুলিশ নিতে গড়িমসি করতে থাকে। 

এ অবস্থায় রহস্যজনক মৃত ব্যক্তির লাশ তাঁর বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে স্থানীয় হাজারীহাট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে রাখেন পরিবারের লোকজন। পরে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক দেন দরবার শেষে থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহন করলে লাশ বাড়িতে গিয়ে যাওয়া হয়। এ কারণে ওই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে বিলম্ব ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল চৌধুরী জানান,  হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মারা গেছেন বলে ধারনা করা হয়। তারপরও সব রকম সন্দেহ দূর করতে আইন মোতাবেক লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার ওসি মো. শাহজাহান পাশা জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর ব্যক্তির পরিবারের লিখিত অভিযোগও গ্রহন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 


মন্তব্য