kalerkantho


চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ হাসপাতাল কেন্দ্রিক প্রতারক চক্র বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৩:১১



চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ হাসপাতাল কেন্দ্রিক প্রতারক চক্র বেপরোয়া

চিকিৎসক সেজে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চক্রটি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খোদ বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হাসপাতাল কেন্দ্রিক এমন চক্রটি ভয়াল রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রটির সঙ্গে শহরের কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে।

চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশ এলাকার ডল্টো হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে প্রতারক চক্রটি একের পর এক প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে। সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে একজন প্রতারক উল্টো হাসপাতালের কেবিনে গিয়ে একজন নারী রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করে। কক্সবাজার থেকে আসা ওই নারীকে হাসপাতালের ৭ম তলায় ৭১৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গাইনির অধ্যাপক ডা. মনোয়ারা লিনা কক্সবাজারের ওই রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।

প্রতারক চক্রের সদস্য নিজেকে ডা. মুরাদ পরিচয় দিয়ে ডল্টো হাসপাতালের ৭১৪ নম্বর কেবিনে ঢুকে পড়ে। এ সময় প্রতারক ডা. লিনার পরিচয় দিয়ে বলেন, 'আমাকে লিনা আপু পাঠিয়েছেন চিকিৎসার ফাইলটি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তাই আমাকে ফাইলটি এগিয়ে দিন।' রোগীর স্বজনরা প্রথমে আমতা আমতা করলেও পরে ফাইলটি এগিয়ে দেন।

এ সময় ডা. পরিচয়ধারী প্রতারক ফাইলটি নিয়ে তত্ক্ষণাত্ কয়েকটি ইনজেকশনসহ বেশ কিছু ওষুধও লিখে দেন। পরে প্রতারক ডা. লিনা আপুকে মোবাইল করার কথা বলে নিজের মোবাইলে ব্যালান্স নেই অজুহাতে রোগীর স্বামীর (একটি বেসরকারি ব্যাংক ম্যানেজার) মোবাইলটি চেয়ে নেন। তিনি ফোন করার ভান করে ধীরে ধীরে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। এক পর্যায়ে হাসপাতালের বাইরে যেতে থাকলে মোবাইলের মালিকও তার পিছু নেন। এরপর দৌঁড়াতে শুরু করেন। মোবাইলের মালিকও প্রতারকের পিছু ধাওয়া দিয়ে চকবাজারে গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন।

প্রতারককে ধাওয়ার সময় মোবাইল মালিক চোর চোর বলতে থাকেন তেমনি এ সময় প্রতারক নিজেও বলতে থাকেন চোর চোর। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে টহল পুলিশ এসে প্রতারককে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ সময় উপস্থিত আশেপাশের লোকজন এসে প্রতারককে শনাক্ত করেন- এই প্রতারকের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ভেওলা নামক এলাকায়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই প্রতারকের সঙ্গে আরো অনেক সদস্য রয়েছে। গত এক মাসেই হাসপাতালটিতে প্রতারক চক্র এরকম অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। কেবিনের দরজা বন্ধ করে রোগীর নগদ টাকা থেকে শুরু করে স্বর্ণালংকার পর্যন্ত ছিনিযে নিয়েছে।



মন্তব্য