kalerkantho


২০০৬ সালে হারিয়ে যাওয়া সুমাইয়া বাবা-মায়ের খোজে শরীয়তপুরে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২২:৪৬



২০০৬ সালে হারিয়ে যাওয়া সুমাইয়া বাবা-মায়ের খোজে শরীয়তপুরে

ছবি : কালের কণ্ঠ

বাবা ও মায়ের নাম ছাড়া কিছুই জানে না সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া। শুধু নিজ জেলার নাম শরীয়তপুর বলতে পারে। ২০০৬ সালে ঢাকার মিরপুর থেকে হারিয়ে যাওয়া সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া তার বাবা-মায়ের খোজে শরীয়তপুর পালং মডেল থানায় এসে সকলের সহযোগিতা চাইছেন। এ বিষয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ একটা সাধারণ ডাইরি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। 

পালং মডেল থানা ও সুরাইয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১২ বছর আগে ২০০৬ সালে রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকা থেকে হারিয়ে যায় সে। তখন সুরাইয়া আক্তার সুমাইয়ার বয়স ছিল ৬ বছর। সে মিরপুরের সীদ্ধান্ত নামের একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে লেখা পড়া করত। 

বর্তমানে সুরাইয়া ১৮ তে পাঁ দিয়েছে। সেই থেকে বাবা-মা, ভাই-বোন ও পরিবারকে খুঁজে বেড়াচ্ছে সুমাইয়া। সুমাইয়ার পিতার নাম সুলাইমান মিয়া ও মাতা জুলেখা বেগম। বাবা মিরপুর-১ এলাকায় ডেকোরেটরের ব্যবসা করত। সুমাইয়া ৬ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ। বড় বোন সুমী তখন কলেজে পড়ত। পর্যায়ক্রমে ভাই জুয়েল, বোন সোনিয়া, সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া (হারিয়ে যাওয়া মেয়েটি) বোন স্মৃতি ও ভাই ফাহিম। 

সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া হারিয়ে যাওয়ার পর সদর ঘাট থেকে বরিশালের লঞ্চে মুলাদি যায়। মুলাদী লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার তাকে মুলাদী থানায় নিয়ে সাধারণ ডাইরি করে। হিজলার পত্তনিভাঙ্গা (ভুয়া বাড়িয়া) এলাকার দেলোয়ার হোসেন (বাদশা হাজারী) সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়াকে থানা থেকে জিম্মায় নেয়। 

সেই থেকে মেয়েটি বাদশা হাজারীর বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে। এর মধ্যে একাধিকবার পালিয়ে শরীয়তপুরে আসার চেষ্টা করে সুমাইয়া ব্যর্থ হয়। সুমাইয়া তার বাবার মুখে শুনেছে তার জন্ম শরীয়তপুর জেলায়। তাই শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় এসে পিতা-মাতার খোঁজ চায় সে। এ বিষয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ একটা সাধারণ ডাইরি নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

পালং মডেল থানা ওসি তদন্ত হুমায়ুন কবির বলেন, মেয়েটি গতকাল শুক্রবার রাতে থানায় আসে। মেয়েটি শুধু তার পিতা-মাতার নাম বলতে পারে। কোন ঠিকানা বলতে পারে না। মেয়েটির কথা মতো সাধারণ ডাইরি নেয়া হয়েছে। মেয়েটির পিতা-মাতার খোঁজ পেলে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। 


মন্তব্য