kalerkantho


শৌচাগারের পাশে দুর্ভাগা শহীদ মিনার!

একুশের মধ্যরাতে এখানেই দেয়া হবে পুষ্পমাল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:৪৫



শৌচাগারের পাশে দুর্ভাগা শহীদ মিনার!

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৌচাগারের পাশ ঘেঁষে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনারটি নিয়ে বিব্রত এলাকাবাসী। তিন বছর আগে নির্মিত এই শহীদ মিনারটি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণসহ সর্ব মহলের মাঝে চরম ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু ক্ষোভ থাকলেও কাজের কাজ কিছুই যেন কারো করার নেই। অথচ মঙ্গলবার মধ্যরাতের পরই পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বরং বায়ান্নের একুশের শহীদ সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত ও নাম না জানা অনেক ভাষা শহীদদের স্মরণে মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে এই শহীদ বেদীতেই পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে।

জানা যায়, টেকনাফ বাহারছড়ায় ভাষা শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতি চারণের জন্য এই শহীদ মিনারটি শৌচাগারের পাশ ঘেঁষে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও শামলাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদাসীনভাবে কোনো নিয়ম না মেনে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে। যা দেখলে উল্টো শহীদদেরকে অবমাননা করছে বলে যেকোনো ব্যক্তির মনে হবে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

উক্ত স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ মিনারটি উক্ত দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিনটি শৌচাগারের পাশ ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে, যা শহীদ মিনারটির সৌন্দর্য্য ও পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ও মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে বাহারছড়ার জনগণ একমাত্র এই শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসলে সেখানে সবার থেকে পাশের শৌচাগারের একটি পঁচা দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়, যা সেখানে একটি অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

আর একাধিকবার স্থানীয় জনগণ উক্ত সমস্যার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানালেও মূলত কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এমনকি কয়েক বছর যাবৎ স্থানীয় জনগণ এই সমস্যা সামাধানের কোনো আলোর মুখও দেখতে পায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বাহারছড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ ইউনুছ গতরাতে বলেন, 'আসলে শহীদ মিনারের এমন দৃশ্যটি নিয়ে আমরা এলাকাবাসী সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছি। স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা এখানে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন।' অপরদিকে এ বিষয়ে জানার জন্য হোসেন মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে বাহারছড়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনজুর আলমের সঙ্গে গতরাতে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, 'তিন বছর আগে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। টেকনাফ উপজেলা পরিষদের তহবিল নিয়ে এটি নির্মাণের সময় স্কুল কমিটিকে জানানো হয়নি এবং কাজ শেষে আমাদের হস্তান্তরও করা হয়নি।' প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে আরো বলেন, শহীদ মিনারটি নির্মাণের আগেই সেখানে অপর একটি এনজিও নির্মাণ করে শৌচাগার।

স্থানীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, বাহারছড়ার একমাত্র শহীদ মিনারটির অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক, এখানে শহীদ মিনারটির সৌন্দর্য্য ও পবিত্রতা বলতে কিছুই নেই, এখানে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসলে শৌচাগারের অসহনীয় পঁচা দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, এই সমস্যার ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে বার বার অভিহিত করলেও তারা এই সামান্য সমস্যাটি এখনো সামাধান করতে পারেননি, যা খুবই দুঃখজনক। অন্যদিকে স্থানীয় জনগণ শহীদ মিনারটির পাশ ঘেঁষে শৌচাগারগুলো সরিয়ে ফেলে শহীদ মিনারের সৌন্দর্য্য ও পবিত্রতা রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য