kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ দফা দাবি রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:২৮



প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৭ দফা দাবি রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের

আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে রাজশাহীর উন্নয়নে ১৭ দফা দাবি উপস্থাপন করবে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আগামী বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজশাহীতে আগমন উপলক্ষে এসব দাবিনামা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরা হবে। রাজশাহীর উন্নয়নে এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক হবেন বলেও নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন। একই সভা থেকে রাজশাহীতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যাল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়।

রবিবার সকালে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সহ সভাপতি ডা. আবদুল মান্নান। সভায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে রাজশাহীর উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপন করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান।

সভায় উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও শিল্প কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, নগরীতে আবেদনকারীদের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ স্থাপন, গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প পুন:বিবেচনায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন, আরো একটি সিএনজি স্টেশন স্থাপন অন্যতম।

এ ছাড়া রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু করন, আব্দুলপুর-রাজশাহী-রহনপুর ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, ভুখণ্ড রক্ষায় স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ, কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠা, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নগরীর একাধিক মাধ্যমিক স্কুল সরকারি করন, ক্রিকেট টেস্ট ভেন্যু স্থাপন, পদ্মা নদীর চরে সরকারিভাবে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, পদ্মানদীর রাজশাহী-চাপাই ও চারঘাট-বাঘা ড্রেজিং প্রকল্প গ্রহণ করে নদীপথে পন্য সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করণ, আম, টমেটোসহ অন্যান্য ফল সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং নারী শিল্পোদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সহায়তার দাবি করবেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান রাজশাহীর উন্নয়নে এসব বিষয় বাস্তবায়নের দাবি করে বলেন, রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পূর্ব পাশ ঘেঁষে পদ্মানদী প্রায় ৭০ কিমি দৈর্ঘ্য বিস্তৃত। কৃষিভিত্তিক উত্তরাঞ্চলের মানুষ পানির বড়ই কষ্টে আছে। ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব ও এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ভূমিধ্বস ও জলবায়ূ বিরূপ প্রভাবসহ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এর মাশুল দিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

সভায় রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, এসব দাবিতে রাজশাহীর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। আপনাকেও (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) একাধিকবার স্মারকলিপির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে নানা আশ্বাস থাকলেও দাবিগুলো পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে রাজশাহীবাসী অনেকটায় হতাশ। এরই মধ্যে আপনি রাজশাহীতে আসছেন। আপনার রাজশাহী আগমনে আমার আবার নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছি। আপনার উন্নয়ন বার্তা শুনতে রাজশাহীবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, সহসভাপতি আলহাজ হারুনার রশিদ, অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাড. ইয়াহিয়া, অ্যাভোকেট অঙ্কুর সেন, সেলিনা খাতুন. মিনহাজ উদ্দিন মিন্টু, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সমাজ সেবক নিযাম উদ্দিন, প্রকৌশলী খাজা তারেখ, নুরুল হক, আব্দুর রাজ্জাক ও মো. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।


মন্তব্য