kalerkantho


নবজাতকের মৃত্যু

ফরিদপুরে শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর    

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:০২



ফরিদপুরে শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ফরিদপুর শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় জন্মের সাড়ে সাত ঘণ্টা পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুরের সৌদি প্রবাসী আজাদ খলিফার স্ত্রী সেলিনা বেগম গতকাল শনিবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতে সেলিনা বেগমের সিজারিয়ান অস্ত্রপচার করেন ডা. রিজিয়া আলম। অস্ত্র পচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। জন্মের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পর নবজাতকটি মারা যায়।

এদিকে প্রসূতি সেলিনার স্বজনদের অভিযোগ, অন্তসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে ডা. রিজিয়া আলমের তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে মা মনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডা. রিজিয়া আলম হেলথ কেয়ার সেন্টারে কয়েক দফায় আল্ট্রসনোগ্রাম করানো হয় সেলিনা বেগমের। প্রতিবারই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিজিয়া আলমকে দেখালে তিনি সেলিনার যমজ সন্তানের বিষয়টি জানান। 

কিন্তু শনিবার রাতে সেলিনার যমজ সন্তান না হয়ে মাত্র একটি সন্তান হলে বিষয়টি নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়। তারা জানালে ডা. রিজিয়া আলম বলেন, সেলিনার গর্ভে আর কোনো সন্তান নেই। পরে আজ রবিবার বিকেলে ওই চিকিৎসক সেলিনার ফের অস্ত্র পচার করে তার গর্ভে কোনো সন্তান পান নি।  

প্রসূতি সেলিনা বেগমের বড় বোন জাহানারা পারভীন জানান, গতকাল শনিবার বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে তাকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত আটটার দিকে ডা. রিজিয়া আলম তার সিজারিয়ান অস্ত্রপচার করে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। আগে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম অনুযায়ী সেলিনার যমজ সন্তান হওয়ার কথা। 

আমরা জানতে চাইলে চিকিৎসক জানান, সেলিনার গর্ভে আর কোনো সন্তান নেই। শনিবার গভীর রাতে সেলিনার পেটে বেদনা শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে আজ রবিবার সেলিনার ফের আল্ট্রসনোগ্রাম করা হয়। পরে বিকেলে ওই চিকিৎসক সেলিনার ফের অস্ত্রপচার করে জানান, সেলিনার গর্ভে কোনো সন্তান নেই। 

চিকিৎসকের কথায় বিষয়টি আমরা মেনে নেই। শনিবার রাতে অস্ত্রপচার করে যে শিশুর জন্ম হয়েছিল। প্রায় সাত ঘণ্টার পরও সেই নবজাতকটি মারা যায়। তিনি বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা অস্ত্র পচারের পর সেলিনার জ্ঞান ফিরেছে। সে সুস্থ রয়েছে। 

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মন্ডল জানান, সেলিনার স্বজনদের দাবি অনুযায়ী চিকিৎসক রি-ওপেন করে কোনো সন্তান পান নি। শিশু সন্তানটিকেও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপুষ্ট সন্তানের মৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে চিকিৎসক রিজিয়া আলমের বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।


মন্তব্য