kalerkantho


নাইক্ষ্যংছড়িতে ডাকাতের ভয়ে ঘরছাড়া চাকপাড়ার বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০১:৫১



নাইক্ষ্যংছড়িতে ডাকাতের ভয়ে ঘরছাড়া চাকপাড়ার বাসিন্দারা

ছবি: কালের কণ্ঠ

সাত পরিবারের বসবাস থেকেই নাম হয়ে যায় সাতগইজ্যা পাড়া। যুগের পর যুগ বসবাস চাক সম্প্রদায়ের জুম্মজীবী এসব মানুষের। এখন ডাকাতের ভয়ে সবাই চলে এসেছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে। পুরো পাড়া তাই গত দুইদিন ধরে পড়ে আছে ফাঁকা।

দিনভর জীবীকার সন্ধানে কাটিয়ে পুরুষরা সন্ধ্যার পরপরই ফিরছে গ্রামে। ডাকাত ধরতে রাতে জেগে তারা দিচ্ছে পাহারা।

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের এক চাক গ্রামের চিত্র এটি। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডভুক্ত এই গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়ক।

গত বৃস্পতিবারে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সংঘটিত কয়েকটি ডাকাতির ঘটনার পর ওই গ্রামের পুরুষরা ঘর থেকে বের হয়ে ডাকাত দলকে তাড়া দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় সন্ত্রাসীরা সাতগইজ্যা পাড়ার জনসাধারণের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেয়। এর পরপরই ওরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় মধ্যম চাকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শনিবার বিকেলে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যুগ যুগান্তরের সাতগইজ্যা পাড়া এখন জনমানবহীন এক ভুতুড়ে জনপদে পরিণত হয়ে আছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীর শেখ ডাকাতের ভয়ে গ্রামবাসীর পালিয়ে আসার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনার কথা জানতে পেরে ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর থেকেই ওই এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওসি আবারো নিশ্চিত করেছেন, এখনো অভিযান চলছে। সন্ত্রাসী আটক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে তিনি জানান।

নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক এম এ হামিদ কালের কণ্ঠকে জানান, এলাকাটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে হলেও এ গ্রাম থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার হাটলেই মায়ানমার সীমান্ত। অন্যপাশে কক্সবাজার জেলার রামু এবং উখিয়া থানার সীমান্ত।

এম এ হামিদ জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়ক চালু হবার পর থেকে কয়েকটি থানার প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত হবার সুবাদে বিস্তীর্ণ এই এলাকা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

তিনি জানান, পুলিশ-বিজিবির তাড়া পেলে সন্ত্রাসীরা বান্দরবান জেলার সীমান্ত পার হয়ে কক্সবাজার জেলায় কিংবা মায়ানমারের দিকে ঢুকে যাবার কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে তাদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।

এলাকার সন্ত্রাসী-ডাকাতদের আটক করতে হলে নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া, রামু এবং পূর্ব দিকে থেকে বিজিবির চিরুনি অভিযান দরকার বলে জানান এম এ হামিদ।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মধ্যম চাকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ছোট কক্ষে শিশু সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মং মং চাকের স্ত্রী মাইয়ে চাক, ছা হ্লা থোয়াই চাকের স্ত্রী ইউ চিং চাক, ক্য উ হ্লা চিং চাকের স্ত্রী এ মাই চিং চাক, থোয়াইছা প্রম্ন চাকের স্ত্রী মা চা চিং চাক ও চিং থোয়াই চাকের স্ত্রী হ্লানি খয় চাক।

হ্লানি খয় চাক জানান, শুক্রবার সকালে তার স্বামী প্রতিদিনকার মতো গরুর পাল নিয়ে জুম পাহাড়ে যাওয়ার সময় ১০ থেকে ১২ জনের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দলের কবলে পড়েন। সন্ত্রাসীরা চিং থোয়াই চাকের গতিরোধ করে মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয় সন্ত্রাসীদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ-বিজিবিকে খবর দিলে পাড়াবাসীকে হত্যা করা হবে।

হ্লানি খয় জানান, হুমকি দেবার পর সন্ত্রাসীরা তার স্বামীর মোবাইলটি ফেরত দেয়।
 
তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা এখনো মাঝে মাঝে মোবাইল ফোন করে তার স্বামীকে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় পাড়া ছেড়ে পালিয়ে আসা ছাড়া তাদের কোনো উপায় ছিল না।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাড়ি ছেড়ে স্কুল ঘরে আশ্রয় নেয়া চাক পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ টাকা এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।



মন্তব্য