kalerkantho


জামালপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি সড়ক মেরামত হয়নি

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:২৭



জামালপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি সড়ক মেরামত হয়নি

জামালপুরের ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়ক দুটি বিগত বন্যায় ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড হলেও দীর্ঘ পাঁচ মাসেও মেরামত হয়নি। এতে ওই দুটি সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ইসলামপুরের আমতলি বাজার থেকে উলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক বিগত বন্যায় ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এ ছাড়াও ইসলামপুরের পচাবহলা থেকে মাহমুদপুর পর্যন্ত ৫কিলোমিটার পাকা সড়ক বিগত বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় সড়কটিতে অসংখ্য খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়কের মেলান্দহের বানিয়াবাড়ি, শিরিঘাট, পচাবহলা এবং ইসলামপুর-উলিয়া সড়কের ইসলামপুরের রামভদ্রা, উলিয়া, করিরতাইর, দক্ষিণ চিনাডুলী ও বলিয়াদহ এলাকার রাস্তা বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের ভাঙ্গা স্থানগুলো সরকারিভাবে মেরামতের উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে কিছু মাটি ফেলে সড়টিতে কোনো রকমে চলাচলে ব্যবস্থা করেছেন। ওইসব ভাঙ্গা স্থানে প্রায়ই ইজিবাইক উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এখনও ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

এ ব্যাপারে মাহমুদপুর ইউনিয়নের চরমাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, বিগত বন্যা চলে যাওয়ার পর পাঁচ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। কয়েক মাস পর আবারও বন্যা আশার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়ক দুটিতে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

রাজনগর গ্রামের মনোয়ার হোসেন বলেন, বন্যার পর থেকে এই সড়কের জন্য দুর্ভোগের শেষ নাই। বন্যার পর ভাঙা অংশে অনেক পানি ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়েছে। পানি কমার পর এক সপ্তাহ যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এরপর ইজিবাইক ও রিকশাচালকসহ গ্রামবাসীরা মিলে ওই ভাঙা অংশে মাটি দিয়ে ছোট রাস্তা তৈরি করেছে। ওই সড়কে চলতে অনেক সমস্যা হয়।

নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় স্বেচ্ছাশ্রমে ইসলামপুর-উলিয়া-মাহমুদপুর সড়কের ভাঙ্গা জায়গাগুলোতে অল্প করে মাটি ফেলা হয়েছে। এতে কোনো রকমে হালকা যানবাহনসহ লোকজন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই সড়ক দুটিতে মাহমুদপুর, নোয়ারপাড়া, সাপধরী, চিনাডুলী ও ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ অতি কষ্টে চলাচল করছেন।

মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ইসলামপুর-মাহমুদপুর সড়কের মেলান্দহের বানিয়াবাড়ি ও শিরিঘাট এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিঘ্র্রই সড়কটি মেরামত করা হবে।

ইসলামপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আহসান আলী জানান, বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইসলামপুর-উলিয়া পাকা সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী বন্যা মৌসুমের আগেই সড়কটি সংস্কার করা হবে। 

মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতি গ্রস্ত রাস্তাটির মধ্যে মাহমুদপুরের ওই রাস্তাটি ছাড়া বাকিগুলো মেরামত করা হয়েছে। তবে মেলান্দহের মাহমুদপুর অংশের ভাঙ্গা সড়ক মেরামতের জন্য এলজিইডি কার্যালয়ে প্রপোজাল পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য