kalerkantho


সাংবাদিক শিমুল হত্যা

মেয়রের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১০ আসামির আত্মসর্মপণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১০



মেয়রের বাড়িতে হামলার ঘটনায় ১০ আসামির আত্মসর্মপণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার সময় পৌর মেয়র (সাময়িক বহিস্কৃত) হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলার ১০ আসামি আদালতে আত্মসর্মপণ করার পর তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক। অপরদিকে একই মামলায় শাহজাদপুরের আমলী আদালতের বিচারক পলাতক ৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে উভয় আদালত দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের দুটি ধারায় পৃথক ভাবে এ আদেশ দেন বলে জানান বাদির আইনজীবিরা।       

আত্মসর্মপণ করা আসামিরা হলেন- সোহেল, জাহান, জীবন ওরফে বেলাল, রাসেল, এরশাদ, তারিকুল, আল মাহমুদ, বিল্পব, আল আমিন ও সেলিম। আর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সভাপতি শেখ কাজল, পৌর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের শ্যালক মাসুদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাহু ও স্থানীয় সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের ভাগ্নে মিঠু।  

বাদীর আইনজীবি সিনিয়র এ্যাড: সানোয়ার হোসেন জানান, মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলার বিস্ফোরক আইনের ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ১০ জন সিরাজগঞ্জ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফাহ্মিদা কাদেরের আদালতে আত্মসর্মপণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  

বাদীর আরেক আইনজীবি সিনিয়র এ্যাড: রফিক সরকার জানান, মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলার দণ্ডবিধি ধারায় আজ মঙ্গলবার আসামিদের শাহজাদপুর আমলী আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু কোনো আসামি হাজির না হওয়ায় পলাতক ৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হাসিবুল হক। 
তিনি আরো জানান, ১৯ জনের মধ্যে বাকি ১৫ জন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছেন। ২৫ জানুয়ারি তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হবে।  

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারী শাহজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে হামলা, আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন মারা যায়। ওই ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই সময় মেয়রের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মেয়রের স্ত্রী লুৎফুন নেছা পিয়ারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা মামলা না নেওয়ায় তিনি পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটির তদন্ত শেষে সকল আসামিদের বাদ দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর মামলার বাদী আদালতে নারাজি দিয়ে মামলাটি জুডিশিয়াল তদন্তের জন্য আবেদন করেন। আবেদনটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল স্বাক্ষী গ্রহণের পর ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে আদালতে প্রমাণিত হয়। পরে মামলাটি দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের দুটি ধারার মধ্যে শাহজাদপুর আমলী আদালতের বিচারক দণ্ডবিধি ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং বিস্ফোরক আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এ নথি প্রেরণ করেন। শুনানি শেষে ২ জানুয়ারী ১৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। অপরদিকে, সাংবাদিকের স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাময়িক বহিস্কৃত মেয়র মিরু এখনও জেলহাজতে রয়েছে। জামিনে রয়েছেন ২৯ আসামি। আর পলাতক রয়েছেন ৮ আসামি।

 



মন্তব্য