kalerkantho


রিপোর্টারের ডায়েরি

কক্সবাজার সৈকতে আরেক 'বিএনপি পল্লী' দেখতে চাই না

তোফায়েল আহমদ   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৯



কক্সবাজার সৈকতে আরেক 'বিএনপি পল্লী' দেখতে চাই না

এর আগে এতগুলো প্রকল্প নিয়েও কোন ওজর আপত্তি উঠেনি কক্সবাজারে। আপত্তি উঠেনি কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নিয়ে। বরং এই স্টেডিয়াম করায় কক্সবাজারবাসী সরকার প্রধানসহ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ীসহ পুরো দ্বীপটিতে এতগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০ হাজার একর জমি নেয়া হচ্ছে। তথাপি কক্সবাজারবাসী চুপচাপ রয়েছেন।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমি নেয়া হয়েছে সাবমেরিন ক্যাবলের জন্য। অধিগ্রহণ করা হয়েছে রাস্তা-ঘাট এবং পাইপ লাইনের জন্য-তবুও এলাকাবাসী চুপ। মহেশখালীর মাতারবাড়ীসহ পুরো মহেশখালী দ্বীপের তাপ বিদ্যুৎসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলোর জন্য বহু পরিমাণ লবণ ও চিংড়ি জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এ কারণে বহু পেশাজীবী হয়ে যাচ্ছেন পেশাচ্যুত। তবুও কারো টু-শব্দটি নেই।

বাগেরহাটের প্রকল্প নিয়ে পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর কত আন্দোলন-কত সংগ্রাম। এমনকি সেই পরিবশেবাদীদের সংগ্রামের ঢেউ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গিয়েও আঘাত হেনেছে। পরিবেশবাদীরা মহেশখালীর মাতারবাড়ীর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প নিয়েও নড়াচড়া শুরু করেছিল। কানাঘুষায় নেমেছিল সরকার বিরোধী গোষ্ঠীও-যাতে পরিবেশ ধ্বংসের অজুহাত নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থামিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু এই গোষ্ঠি সফল হয়নি একমাত্র কক্সবাজারের সচেতন সুশিল সমাজের কারণে।

কক্সবাজার বিমান বন্দরে ৬০০ একর জমি নেওয়া হয়েছে। বিমান বন্দর সংলগ্ন বিমান ঘাঁটির জন্যও নেওয়া হয়েছে অনেক পরিমাণের জমি। একেত একটি পর্যটন শহরে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দ্বিতীয়ত সেই বিমান বন্দরের পার্শ্বেই বিমান ঘাঁটি স্থাপনেও মহল বিশেষের আন্দোলনকে সুশিল সমাজই থামিয়ে দিয়েছে।

অথচ এই বিমান ঘাঁটি স্থাপনের কারনেই আজ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি মাত্র কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালটিও এক অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে। অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে শিল্পকলা ও শিশু একাডেমীসহ প্রস্তাবিত শিশু পার্কের জমি খণ্ডটিও। জেলে পার্কটিও চলে যাচ্ছে বিমান বন্দরের পেটে। তবুও কক্সবাজারের শান্ত মানুষগুলো একবারের জন্যও রাস্তায় নামেননি।

তাহলে এমন যে কি হল-পর্যটনের হোটেল শৈবাল সহ পার্শ্ববর্তী ১৩৫ একর জমি রক্ষার জন্য আজ কক্সবাজারের আবাল-বৃদ্ধ বণিতা কেন এক কাতারে দাঁড়ালেন। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন দৈনিক কালের কণ্ঠে গত ৭ ডিসেম্বর তারিখের অন লাইন সংস্করণে প্রকাশ হয়। কালের কণ্ঠ অনলাইনের '৫ হাজার কোটি টাকার হোটেল শৈবালের সম্পত্তি ৬০ কোটি টাকায় বেসরকারি খাতে' শিরোনামের সংবাদটি এক দিনের মধ্যেই ২৫ হাজার ফেসবুকে শেয়ার হয়ে যায়। বুঝতে বাকি থাকে না বাস্তবে বিষয়টি কত গুরুত্বপূর্ণ।

হোটেল শৈবালসহ ১৩৫ একর জমি পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ (পিপিপি) এর নামে এক প্রকারের ইজারা দেওয়ার বিষয়টিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ইতিমধ্যে স্থানীয়রা আন্দোলন-সংগ্রামে নেমেছেন। এ আন্দোলন-সংগ্রামের অনেক কারণ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কারণ যেটি সেটি হচ্ছে-বিগত বিএনপি জামায়াত সরকারের আমলে কক্সবাজার সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেল জোনের প্রায় ১০০ একর জমির লুণ্ঠন। সাগর পাড়ের সেই জমি রাতারাতি বিএনপি দলীয় নেতারা ভাগাভাগি করে নেয়। এই জমিতে গড়ে তোলা ভবনগুলো আজ পর্যটকদের সাগর দর্শনে প্রতিবন্ধকতার ভবন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত কক্সবাজার সৈকত দর্শনে মস্তবড় একটি দালান হচ্ছে বিএনপি পল্লী নামে পরিচিত হোটেল-মোটেল ভবনগুলো।

বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত তীরের মূল্যবান জমি রাতারাতি ভাগাভাগি করে নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে দালান-কোঠার মাধ্যমে বিগত বিএনপি সরকার মূলত কক্সবাজার সাগর পাড়কে এখন ঘিঞ্জি শহরে পরিণত করে দিয়েছে। সৈকত তীরের বিশাল এলাকায় এরকম অপরিকল্পিত দালান-কোঠার হোটেল গড়ে তোলায় খোলা জায়গার বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। এভাবে সাগর পাড়ের আরো জমিতে নতুন করে কোনো দালান-কোঠা নির্মিত হলে সেটি হবে পর্যটন শহরটির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাই হোটেল শৈবাল সংলগ্ন এলাকাটি এখন খোলা রাখাই হবে বড় মানবিক ব্যাপার। আবারো বিগত বিএনপি সরকারের মতো করে রাতারাতি জমি ইজারার মাধ্যমে নতুন করে 'একটি পল্লী' কক্সবাজারবাসী দেখতে চান না।

লেখক : তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজারে কর্মরত দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার।



মন্তব্য