kalerkantho


স্বামীর শহীদের মর্যাদার জন্য ৪৭ বছর ধরে চেষ্টা করছেন রাবেয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৪:০৭



স্বামীর শহীদের মর্যাদার জন্য ৪৭ বছর ধরে চেষ্টা করছেন রাবেয়া

১৯৭১ সালে রাবেয়া রহমানের স্বামী ওয়াজেদুর রহমান যশোর সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন

রাবেয়া রহমান ৪৭ বছর ধরে স্বামীর শহীদের মর্যাদার জন্য বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাঁর সেই আশা পূর্ণ হয়নি। যদিও ১৯৭২ সালে শহীদের স্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাঁকে দুই হাজার টাকা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের দেখব।’ কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আর কেউ খোঁজ নেননি।

যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের রাবেয়া রহমান এই বৃদ্ধ বয়সেও স্বামীর সম্মানের জন্য, বাকিটা জীবন মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’

১৯৭১ সালে রাবেয়ার স্বামী ওয়াজেদুর রহমান যশোর সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি করতেন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর যশোরের বীর জনতা ক্যান্টনমেন্টের পানি, বিদ্যুৎ, খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। স্বাধীনতার জন্য ওয়াজেদুর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২৫ মার্চ থেকে তিনি আর কাজে যোগ দেননি। এ সময় তিনি খোলাডাঙ্গায় অবস্থান করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। হানাদারদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের সৎকার করেছেন। হানাদাররা এ খবর জানতে পেরে ২১ এপ্রিল ওয়াজেদুরের বাড়িতে হামলা চালায়।

আরো পড়ুন : আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও একজন ম্যাসকারেনহাস

তারা বাড়িঘর আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দিয়ে ওয়াজেদুরকে ক্যান্টনমেন্টে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু ওয়াজেদুরের লাশের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রাবেয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যশোর সার্কিট হাউসে আসেন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করি। তিনি আমাকে দুই হাজার টাকা দিয়ে আমার মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। পরবর্তী সময়ে আমার স্বামীর খোঁজ আর কেউ নেননি। আমি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে স্বামীকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমি সেনাবাহিনী থেকে স্বামীর পেনশন পাচ্ছি। তবে শহীদের মর্যাদা পাইনি।’

আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রাবেয়াকে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তাঁর স্বামী শহীদ হয়েছেন। ২০১৫ সালের ২ জুলাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম এ সালাম খান ওয়াজেদুরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। তার পরও রাবেয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।


মন্তব্য