kalerkantho


সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ১, আহত ১, পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ১

প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের অশান্ত করে তোলার অপচেষ্টা

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৭



প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের অশান্ত করে তোলার অপচেষ্টা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসরত প্রত্যাবাসনবিরোধী একটি চক্র মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। এ চক্রটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে ক্যাম্পে বিভিন্ন অপকর্ম, ভয়ভীতি, প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালাচ্ছে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পিস্তলের গুলিতে নিহত হয়েছে রোহিঙ্গা নেতা মো. ইউসূফ (৪৬)। একই সময় বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি আরিফুল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি করলে ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার বড় ভাই মৌলভী আজিমুল্লাহ শরীরে বিদ্ধ হয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলম নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে একটি সক্রিয় বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেছে।

ঘটনাস্থল থাইংখালী তাজনিমারখোলা ডি-ব্লক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ওই ক্যাম্পের হেড মাঝি রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কথা হয়, সে জানায়, তার ক্যাম্পে ৮০ জন মাঝির আওতায় ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। মো. ইউসূফ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ওই নেতা তার চার দিকে একটু চোখ বুলিয়ে কাউকে প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিহত ইউসূফ মিয়ানমারের মংডু বলি বাজার ধুনহাই গ্রামের হুক্কাট্টা (চেয়ারম্যান) ছিলেন। সে মিয়ানমারের ফিরে যেতে প্রত্যাবাসনের পক্ষে কাজ করায় কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ওই রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আলী আরো জানান, প্রতিপক্ষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থলে সে মারা যায়।

কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, মিয়ানমার সামরিক জান্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে এমন শত শত দালালচক্র (বর্মী এজেন্ট) ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে ওই দালালচক্র মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সহযোগীতা করছে ক্যাম্পে কর্মরত কতিপয় এনজিও। তিনি আরো জানান, মিয়ানমার প্রশাসনের ওইসব দালাল চক্র বিভিন্ন অনৈতিক কাজের মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রত্যাবাসন পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ওইসব দালালচক্রদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

১৯৯১ সালে কুতুপালং ক্যাম্পে এখনো পর্যনত্ম পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে ডাক্তার জাফর আলম (৫৫)। লেখাপড়া ও বাহ্যিক জ্ঞান সম্পন্ন ওই রোহিঙ্গা নেতা সাংবাদিকদের জানান, আরসা'র ধোয়া তুলে মিয়ানমার সরকারের বেশ কিছু দালালচক্র বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিরীহ রোহিঙ্গার আদলে লোমহর্ষক ঘটনা ছাড়াও প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যাতে অশান্ত হয়ে উঠে এ নিয়ে মিয়ানমারের ওই দালাল চক্রটি এখন ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ওই চক্রের নাম প্রকাশ করলে তাকে হত্যা করা হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যে কারণে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের চিহ্নিত দালাল চক্রের সদস্যদের ব্যাপারে কারো কাছে মুখ খুলছে না।

কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, প্রত্যাবাসনবিরোধী কতিপয় রোহিঙ্গা তাৎক্ষণিকভাবে জড়ো হয়ে নিমিশেই উধাও হয়ে যায়। তিনি এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর রাখছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

১৩ জানুয়ারি কুতুপালং মধুরছড়া লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আবুল কাশেমের ছেলে মমতাজ মিয়া (৩৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা মৌলভী আরিফুল্লাহকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বালুখালী ময়নার ঘোনা এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তলসহ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আলমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্র আইনে ২টি মামলার প্রস্তুতি চলছে।


মন্তব্য