kalerkantho


নড়াইলে অরুনিমা ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের গুলিতে ১৩ কৃষিশ্রমিক গুলিবিদ্ধ

নড়াইল প্রতিনিধি    

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:০৪



নড়াইলে অরুনিমা ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের গুলিতে ১৩ কৃষিশ্রমিক গুলিবিদ্ধ

ছবি : সংর্ঘষের সময় সেচ কাজে ব্যবহৃত ভেঙ্গে ফেলা পাইপ

নড়াইলের নড়াগাতি থানার পানিপাড়া গ্রামে অরুনিমা ইকোপার্কের মালিকের সাথে পাশের জমির মালিকের সাথে সংঘর্ষে  ১৩ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকেই চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। নড়াগাতি থানার ওসি গুলাগুলির ঘটনা স্বীকার করলেও কারা করেছে এ ব্যাপারে কোন কথা বরতে রাজী হননি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে খাশিয়াল গ্রামের মিজানুর রহমান বিশ্বাসের জমিতে বোরো ধানের সেচকাজের জন্য ডিপটিউবওয়েল স্থাপনে বোরিং (খনন কাজ) করার জন্য যায় কয়েকজন কৃষিশ্রমিক। বোরিং শেষে কৃষিশ্রমিকেরা রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় অতর্কিত প্রতিপক্ষ অরুনিমা ইকোপার্কের কয়েকজন গার্ড এলোপাথাড়ী গুলি ছোড়ে। এতে ১৩ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে আরো অন্তত ৭ জন আহত হয়।

গুলিবিদ্ধদের রাতেই খুলনা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধরা হলেন, খাশিয়াল গ্রামের নজরুল কাজি (৫০), জাকির মোল্যা (৪০), ছরোয়ার ফকির (৫৫), রহিম মোল্যা (২০), রকিব ফকির (২৫), মামুন মোল্যা (৩০), সাবু বিশ্বাস (২৮), আলতাপ শেখ (৩৫), আকিদুল বিশ্বাস (৩০), মিরাজ মোল্যা (৩০), নাসিম মোল্যা (২৫), মেহেদী শিকদার (২০) ও  আরাফাত বিশ্বাস (২৭)। এছাড়া প্রতিপক্ষের পিটুনিতে আহত হয় একই গ্রামের কালু মোল্যা ও কঠাদুরা গ্রামের লিটন শেখ ( ৩০), খাজা ফকির (২৫), ভাষান গাজী (২৮) ও মহিদুল মোল্যা (২৬)। 

অরুনিমা পার্কের পক্ষের রবিজুল মোল্যা (২৮) আহত হন। সংঘর্ষের সময় সেচপাম্প স্থাপনের যন্ত্রপাতিসহ সেচঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করার অভিযোগ করেছে জমির মালিক মিজানুর রহমান বিশ্বাস।

অরুনিমা ইকোপার্কের ম্যানেজার মোঃ শাহাদত হোসেন গুলি করার কথা স্বিকার করে জানান, রাতে প্রতিপক্ষের মিজানুর  রহমানের লোকেরা পার্কে আক্রমণ করে ভাংচুর চালায় এবং জোর করে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এসময় দ্বায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ডরা ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি ছোড়ে। 

জমির মালিক খাশিয়ান ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, খাশিয়াল মৌজায় তার মালিকানার ৩ একর জমির মধ্যে ইতিমধ্যে অরুনিমা পার্কের মালিক খবিরউদ্দিন প্রায় দেড় একর দখল করে নিয়েছেন। এখন এই জমিতে যখনই কাজ করতে যাই তখনই তারা গুলি ছোড়ে।

স্থানীয় খাশিয়াল গ্রামের বাসিন্দা সিপিবি নড়াইল জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ বরকত উল্লাহ জানান, অরুনিমা পার্কের মালিক যেভাবে মিজানুর রহমানের জমি দখলের জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন তাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারাত্মক প্রাণহানি ঘটতে পারে।

নড়াগাতি থানার ওসি মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেছেন, তিনি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুলিবিদ্ধ কাউকে তিনি ঘটনা স্থলে পাননি। তবে ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেচপাম্প স্থাপনকারিদের ভাত ও তরিতরকারি দেখতে পেয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, নড়াগাতি থানার খাশিয়াল মৌজার জমি মিজানুর রহমানের সাথে পাশের অরুনিমা ইকো পার্কের জমির মালিক খবিরউদ্দিনের সাথে দীর্ঘদির ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  এ ঘটনার পরে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 



মন্তব্য