kalerkantho


আশুলিয়ায় ৫ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:০১



আশুলিয়ায় ৫ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন

ছবি : কালের কণ্ঠ

আশুলিয়ায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে অবৈধভাবে নেওয়া অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকার অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত নিম্নমানের অসংখ্য পাইপ, রাইজার ও গ্যাসের চুলা। 

আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আশুলিয়ার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান। এসময় বাসা বাড়িতে বৈধ সংযোগের সাথে অবৈধ সংযোগ স্থাপনকারীদেরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

ওই এলাকায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকার তিন শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারী বাড়ির মালিক কামরুল হাসান, ইয়াকুব আলী ও ভাড়াটিয়া হালিমা বেগমকে পৃথক ভাবে ২২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দ করা হয় নিম্নমানের ২ ইঞ্চি ব্যাসের অসংখ্য পাইপ, রাইজার ও চুলা। সংযোগ বিচ্ছিন্ন কাজে সাভার তিতাস গ্যাস অফিসের প্রায় ৩০ সদস্যের শ্রমিকদের একটি দল অংশ নেয়।

এলাকাবাসী জানায়, কয়েকমাস আগে দক্ষিণ গাজীরচট ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কোন কোন বাসা বাড়ির মালিকগণ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে ববৈধভাবে প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। এই অবৈধ গ্যাস সরবরাহ দেয়ার কারণে বৈধ সংযোগ নেওয়া গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় চাপের (প্রেসারের) গ্যাস পাচ্ছেন না। 

খবর পেয়ে বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাভার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার তিন শতাধিক পরিবারের মধ্যে অবৈধভাবে নেওয়া গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তিতাস ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে নয়টি মূল পয়েন্টে মাটির নীচে থাকা গ্যাসের পাইপ তুলে নিয়ে সিলগালা করে দেয়। এ সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানে ব্যবহৃত নিম্নমানের কয়েকশ পাইপ উদ্ধার করা হয়। 

অভিযানের সময় মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা রাইজারগুলোও খুলে নেওয়া হয়। এসময় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারকারীরা নিরবে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। গ্যাস পাইপগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় যেকোন সময় গ্যাসের পাইপ ফেটে বড়ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিলো বলে উল্লেখ করেন তিতাস কর্তৃপক্ষ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান বলেন, বৈধ গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ সংযোগের সংখ্যা কমাতে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাভার-আশুলিয়ার সব অবৈধ গ্যাস লাইন পর্যায়ক্রমে বিচ্ছিন্ন করা হবে। এছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলাও দায়ের করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুলা ব্যবহারকারী বাড়ির মালিকদের আর্থিক জরিমানাও করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অভিযানের সময় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

 



মন্তব্য