kalerkantho


কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে ১৭ ছাত্রছাত্রী আহত

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৪৮



কালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে ১৭ ছাত্রছাত্রী আহত

ছবি : কালের কণ্ঠ

তুচ্ছ ঘটনাকে কন্দ্রে করে প্রাইমারী স্কুলের ৩য় ও ৫ম শ্রেণির ১৭ ছাত্র-ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত ছাত্রছাত্রীদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ছাত্রছাত্রী অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ৫ম শ্রেণীর ইংরেজি ক্লাস শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের মাঠে একটি কাকের মুখ থেকে মুরগীর বাচ্চা ছাড়িয়ে আনতে যায় রিয়াজুল শেখ, তামিম ফকির ও সাইফুল শেখ। এই অপরাধে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম তাদেরকে ডেকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। 

এর কিছুক্ষণ পর তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাস নিতে যান প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। ক্লাস চলাকালে হাতের লেখার ত্রুটি হওয়ার কারনে ছাত্রছাত্রীদের স্টীলের স্কেল দিয়ে বেধড়ক পিটাতে শুরু করেন। প্রধান শিক্ষকের পিটুনিতে ১৪ ছাত্রছাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে জাকিয়া খানম, ছালমা, সনিয়া, মুমতারিন ও কিরন গুরুতর আহত হয়েছে।

ঘটনার সময় পাশে তদন্ত কাজে নিয়োজিত থাকা নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি ছাত্রছাত্রীদের আর্তচিৎকারে স্কুলে ছুটে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের মারের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করেন। 

নড়াগাতী থানার ওসি মোঃ বিলায়েত হোসেন ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আক্রান্ত ছাত্রছাত্রীদের মারমুখী ওই শিক্ষকের রোষাণল থেকে উদ্ধার করে কালিয়ার ইউএনও ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিশির বিশ্বাস বলেন, কোমলমতি ছাত্রদের মারের ঘটনার খবর পেয়েছি। সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। 

প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মারপিটের ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, ছাত্রদের শাসন করার জন্য সামান্য মারপিট করেছি। ওই বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার ও অভিভাবক বিলাল শেখ এই শিশু শিক্ষার্থীদের এভাবে অমানুষের মতো মারাকোন শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। এলাকার অভিভাবকেরা ওই শিক্ষকের অপসারন ও বিচার দাবি করেছেন। 

 


মন্তব্য