kalerkantho


স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী    

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৩৫



স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসি

পাবনা সদরে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে নগদ ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬), একই জেলার আতাইকুলা উপজেলার রাণীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৪৭) এবং একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)। রায় ঘোষণার সময় শুধু বিউটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে আছেন।

আরো পড়ুন শিক্ষকের হাতে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্ত কমিটি 

দণ্ডপ্রাপ্ত কুলসুম নাহারের স্বামী মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাদেরকে  এই সাজা দেওয়া হয়।

নিহত মোশাররফ পাবনা সদর থানার টেকনিক্যাল মোড়ের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি লালন ভক্ত ছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু সাংবাদিকদের জানান, টাকার ওপরে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রুহুল আমিন। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক বছর ধরে চলা এ পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তারা অবৈধ শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা মোশাররফ হোসেনকে তাদের 'পথের কাটা' মনে করেন। তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আরো পড়ুন ৬৪ ভরি সোনার গহনাসহ আটক ১ 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে কুলসুম নাহারের পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান। এরপর তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন।

মোশাররফ হোসেন ঘরে ফিরলে গভীর রাতে তারা তিনজন মিলে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। এরপর গুম করতে মরদেহ একটি বস্তার ভেতর ঢোকানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। পরে ওই রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ মোশারফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুম নাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন থানায় মামলা হয়।

এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাজশাহী বারের অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান রুমন। 



মন্তব্য