kalerkantho


শেরপুরে জেলা হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারে চুরি

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৪৬



শেরপুরে জেলা হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারে চুরি

ছবি: কালের কণ্ঠ

শেরপুর জেলা হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাতে হাসপাতালের শাপলা কোয়ার্টারে এ চুরির ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত ওই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। এদিকে, জেলা হাসপাতাল কোয়ার্টারে গত এক বছরে চারটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবে ওইসব চুরির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার অভাব বিরাজ করছে কোয়ার্টারে বসবাসকারী চিকিৎসকদের মাঝে। ইতিমধ্যে অনেক চিকিৎসক হাসপাতাল কোয়ার্টার ছেড়ে অন্য স্থানে বাসা ভাড়া নেওয়ায় শুন্য হচ্ছে কোয়ার্টারগুলো।

জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য থাকা ৩টি কোয়ার্টারের মধ্যে শাপলা কোয়ার্টারে বৃদ্ধা মা ও এক বোনকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন এনেসথেসিয়া বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আমেনা রহমান। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাসায় ফিরে দেখতে পান যে রান্নাঘরের জানালা খোলা ও গ্রীল কাটা।

এর পর বাসায় অনুসন্ধান করে স্কুল শিক্ষিকা বোন তাহমিনা রহমানের রুমে গিয়ে দেখতে পান ওই রুমের ওয়্যারড্রোব ও আলমিরার ড্রয়ার খোলা এবং সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ করা। সেসময় বোনকে নিয়ে তারা নিশ্চিত হন দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কোয়ার্টারসহ হাসপাতাল অঙ্গনে হুলস্থুল পড়ে যায়।

হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকা ডা. মাহমুদ সিনহা, ডা. নুরুন্নবী ও ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বাসাতেও একই কায়দায় দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবে ওইসব চুরির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, নিরাপত্তার অভাবে বারবার চুরি সংঘটিত হওয়ায় ডক্টরস কোয়ার্টারগুলো অনেকটা শুন্য হয়ে পড়ছে। স্বপরিবারে ১২ জন চিকিৎসকের বসবাসের উপযোগী ওই ৩টি কোয়ার্টারে বর্তমানে বসবাস করছেন ডা. আমেনা রহমানসহ মাত্র ৩ জন। এ ছাড়া স্বপরিবারে একজন চিকিৎসকের থাকার জায়গায় মেস করে রয়েছেন আরও ৩ জন। ফলে কোয়ার্টারের আরো ৮টি ইউনিটই শুন্য রয়েছে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। এতে সরকারের হাসপাতাল বিভাগ প্রতিমাসে মোটা অংকের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডা. আমেনা রহমান বলেন, কোয়ার্টারে দুর্ধর্ষ চুরির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেব। তবে এর আগে আরও ৩ দফায় চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। ফলে একই কায়দায় হয়তো একই চক্র ওই ঘটনা ঘটানোর দু:সাহস পাচ্ছে।

জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাহিদ কামাল হাসপাতাল কোয়ার্টারে চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চুরির বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। সিভিল সার্জনের অনুমতি পেলে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা হাসপাতাল কোয়ার্টারে চুরির বিষয়ে কোনো ধরনের মামলা হয়নি। ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে কোনো কিছু জানায়নি।



মন্তব্য