kalerkantho


ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনে

বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে রংপুর চেম্বারের মতবিনিময়

রংপুর অফিস   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:৪৯



বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে রংপুর চেম্বারের মতবিনিময়

ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর বিভাগের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরাজিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ নিরসনের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসুর সঙ্গে রংপুর চেম্বার নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার চেম্বার ভবনের আরসিসিআই বোর্ড রুমে রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বদরুল হাসান বাবুল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ নুরুল আমিন।

সভায় ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন, সহ-সভাপতি মনজুর আহমেদ আজাদ, বিশিষ্ট আমদানি ও রপ্তানিকারক মগরব আলী, হুমায়ুন কবীর সওদাগর, আলহাজ ময়েন উদ্দিন, রংপুর চেম্বারের পরিচালক আশরাফুল আলম আল আমিন, খেমচাঁদ সোমানী রবি, পার্থ বোস, গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক বরকত উল্ল্যাহ প্রামাণিক ও হ্যান্ডিক্রাফটস প্রস্তুতকারক রংপুর ক্রাফট-এর স্বত্বাধিকারী স্বপ্না রানী সেন, আমদানি ও রপ্তানি সহকারী নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, রংপুরের অফিসার ইনচার্জ শফিউল আলম।

বক্তারা রংপুর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নিতে বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের রাস্তা চার লেনে উন্নীতকরণের পাশাপাশি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, লোড-আনলোডিং সমস্যা, টেস্টিং ল্যাব স্থাপন, রপ্তানির ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন, পোর্ট হ্যান্ডিলিং চার্জ কমানো, দ্রুত রংপুরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মস-এর অফিস স্থাপন, চাল আমদানির ক্ষেত্রে পিপি ব্যাগের ব্যবহার বহাল রাখা, ইমিগ্রেশন পয়েন্টে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, বিবিআইএন কানেক্টিভিটি দ্রুত কার্যকর, নেপালে তুলা রপ্তানিতে সমস্যা, পণ্য পরিবহনে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়গুলো সভায় তুলে ধরেন।

চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন। পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত, অবকাঠামোগত ও জ্বালানি সমস্যাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার একান্ত প্রয়োজন। রংপুর অঞ্চল দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শিল্প-কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এর সার্বিক উন্নয়নে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে যোগাযোগ (রেল ও সড়ক) ব্যবস্থার উন্নয়ন, সম্পদের সুষম বন্টন, বেনাপোল স্থলবন্দেরর ন্যায় রংপুরে বিভাগে অবস্থিত বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ শুল্ক বন্দরে রূপান্তর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, আলাদা শিল্প, কর, ভ্যাট, শুল্ক ও ঋণনীতি প্রণয়নসহ জ্বালানি তথা গ্যাস, কয়লা ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সার্বিক সহযোগিতা ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, ব্যবসায়ীরা অর্থনীতির প্রাণশক্তি। ব্যবসায়ীরা রাজস্ব প্রদান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি রংপুর অঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য উৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে শিগগিরই রংপুরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মসের অফিস স্থাপনের বিষয়টি সরকারি নীতি নির্ধারনী মহলে তুলে ধরার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের ন্যায় বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিল্প-কলকারখানা প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, পণ্যের বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণসহ সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরে তা নিরসনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি তিনি উপস্থিত চেম্বার নেতৃবৃন্দকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে তা লিখিতভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের অনুরোধ জানান।



মন্তব্য