kalerkantho


কক্সবাজারে সুকৌশলে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:১৯



কক্সবাজারে সুকৌশলে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর মুক্তি দাবি

আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি দাবিতে কৌশলে মাঠে নেমেছে সাঈদী মুক্তি সংসদ নামের একটি সংগঠন। তবে এ সংগঠনটির ব্যানারে নয়-ভিন্ন ব্যানারেই এ দাবি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে অত্যন্ত সুকৌশলে। এমন কৌশলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদেরও শরিক করা হচ্ছে নানা ফাঁদে ফেলে। কক্সবাজার-বান্দরবানসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের গ্রামে-গঞ্জে শীত মৌসুমের ওয়াজ মাহফিলের সুযোগ নিয়ে এমন কাজটি করা হচ্ছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে সিরাত মাহফিলের আয়োজন করেই এমন দাবিটি অত্যন্ত সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য জামায়াত ঘরানার আলেমদের দাওয়াত দেওয়া হয়। ওয়াজের শেষ পর্যায়ে এসব জামায়াত দলীয় অনুসারী আলেমগণ অত্যন্ত কৌশলে একাত্তরের 'দেলু রাজাকার' হিসাবে পরিচিত দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে তার মুক্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ গত বুধবার কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন সড়কে তরুণ একতা ক্রীড়া পরিষদ নামের একটি সংগঠনের নামে আয়োজিত মাহফিলে এরকম সুর তোলা হয়। চট্টগ্রাম ইসলামী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মুফিজুর রহমান আল আজহারি নামের একজন আলেম ওয়াজের পর মোনাজাতে একজন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সাঈদীর মুক্তি দাবি করেন।

এই মাহফিলে সভাপতির আসনে ছিলেন স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‌‌'এলাকার কিছু ছেলে এসে আমাকে মাহফিলে যেতে এমন বিনয়ের সুরে অনুরোধ করেন যে, আমি না করতে পারিনি। সরল মনে এবং ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখি-মাওলানা বেশ কট্টরপন্থী। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে যেমনি বলেন, তেমনি যুদ্ধাপরাধীর পক্ষেও। তাই আমি এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হই।'

গত ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় সীরাত মাহফিলে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা মাওলানা জিহাদী নামের একজন আলেমসহ আরো কয়েকজনও এমন দাবি জানান। চকরিয়ার কাকারায় অনুষ্ঠিত গত ৬ জানুয়ারির এক মাহফিলেও এরকম দাবি উঠে।

জানা গেছে, সাঈদী মুক্তি পরিষদ বা মুক্তি সংসদ নামের সংগটনটি নেপথ্যে থেকে এই যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির বিষয়টিকে কৌশলে ব্যাপক ভিত্তিক প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলার একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, নেপথ্যে কারা কাজ করছে তা সন্ধান করা হচ্ছে। অপরদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত কামরুল আজম জানান, 'বিষয়টি আমাদের কানে এসেছে। তাই আমরা নজরদারি শুরু করেছি।'



মন্তব্য