kalerkantho


যমুনার দুর্গম মন্নিয়া চরে ভিজিএল সোলার

জামালপুর প্রতিনিধি   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:৫২



যমুনার দুর্গম মন্নিয়া চরে ভিজিএল সোলার

সূর্যাস্তের পরেই অন্ধকারে ঢেকে থাকা বিদ্যুৎবিহীন যমুনার দুর্গম মন্নিয়া চরাঞ্চলবাসীর মাঝে বিদ্যুতের আলো ছড়িয়ে দিয়েছে ভিনসেন জিটেক লিমিটেড। সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ডিজিটালাইজ প্রযুক্তি ব্যবহারে ইসলামপুরের মন্নিয়া চরাঞ্চলবাসী প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামটিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। জন্ম থেকেই ওই এলাকার মানুষগুলো বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। আর এতে করে ডিজিটালাইজ তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছিলেন তারা। এখন সেখানে আর্শীবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে (ভিজিএল-১) সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্র। মন্নিয়া বাজার সংলগ্ন এই কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই মন্নিয়া চরের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে গ্রামটিকে আলোকিত করেছে ভিনসেন জিটেক লিমিটেড। এতে করে কৃষি জমি আবাদ, স’মিল ও রাইস মিলসহ প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছায়। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া বাজার সংলগ্ন ভিনসেন জিটেক লিমিটেড ৮কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যায়ে ভিজিএল-১ সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করেছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪৯.৬ কি. ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, মন্নিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ১৮কি. মি. সংযোগ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে যাওয়ায় ওই এলাকাবাসীর রাতের অন্ধকারের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে এবং ডিজিটাল যুগের সুবিধাদী হাতের নাগালে পেয়েছেন।

ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক জানান, তাদের মন্নিয় চরে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এলাকায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। ছেলেমেয়েরা আগে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি। তখন অনেক সমস্যা হতো এখন তা লাঘব হয়েছে। ডিজিটাল যুগে মোবাইল চার্জসহ তথ্য প্রযুক্তির কাজ করতে আমাদের সদরে যেতে হতো এখন ওই দুর্ভোগ দূর হয়েছে। সোলার প্যানেল স্থাপনে আমাদের জীবন যাত্রার মানে পরিবর্তন ছোঁয়া লেগেছে।

ভিনসেন জিটেক লিমিটেড’র চেয়ারম্যান মোস্তফা আল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে জানান, যমুনার এই দুর্গম চরাঞ্চলে ভিজিএল-১ সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা আমার অনেকদিনের পরিকল্পনা ছিল। চরাঞ্চলবাসী জন্ম থেকেই বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। আমি চরের সন্তান হিসেবে বঞ্চিতদের আলোকিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের ১ হাজার ৫শ পরিবার ভিজিএল-১ সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যেই ১ হাজার ২শ পরিবারের ঘরে ঘরে বিদ্যুত সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিজিএল-১ সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মাধ্যমে এই চরাঞ্চলবাসী কৃষি কাজে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পসহ সকল কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

এ ছাড়াও মন্নিয়া চরাঞ্চলবাসী নিজ এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা স্থাপন, স’মিল এবং রাইসমিলসহ পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে হাসকিং মিল ও নেটওয়ার্কিং এর সুবিধা পাবে। এতে চরাঞ্চল বাসীর জীবন যাত্রার মান দ্রুত পরিবর্তন হবে।



মন্তব্য