kalerkantho


শীত আর ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন যারা ...

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:২৬



শীত আর ঝড়-বৃষ্টিতে ভেজা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন যারা ...

ছবি: কালের কণ্ঠ

আগে আমার বসবাস করার মতো ঘর ছিল না। কোনো মতে হুগলাপাতা আর গোলপাতা দিয়ে ছাপরা বানিয়ে ছোয়াল মাইয়া নিয়ে থাকতাম। স্বামী নাই। পরের জমিতে জোন বিক্রি করে খাবার জোগার হয়। ঘর বানানো টাকা থাকে না। শীতকালে ঠান্ডায় কাপাকাপি আর গরমকালে ঝড় বৃষ্টিতে ভেজা। এই ভাবে চলতো আমাদের জীবন। সরকারের দেয়া এই ঘরখানা পাইয়া আমার যে কত ভালো হয়েছে তা বলে আপনাদের বুঝাতে পারবো না। জীবনের শেষ বয়সে মনে হয় একটু সুখের মুখ দেখছি। আর কিছু না হোক কনকনে ঠান্ডা আর ঝড়-বৃষ্টির থেইকাতো রেহাই পাব।

এসব কথা বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি ষাটোর্ধ বয়সী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমান শেখের স্ত্রী বৃদ্ধা রেবেকা বেগম। তিনি নতুন টিন দিয়ে তৈরি ঘরের চাবি হাতে পেয়ে বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এ সময় ওই স্থানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

শুধু যে রেবেকা বেগম তা নয় এ ধরনের অনুভুতি ওই এলাকার শরীফ পাড়ার মিজানুর রহমান ও ছবর আলী মিয়াসহ অনেকেরই। তারা বলেন, আমাদের বসবাস করার মতো ভালো একটি ঘর ছিল না। সরকার আমাদের একটি ঘর দিয়েছে, ছেলেমেয়ে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারব। আর এ জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন এবং তাঁর দল যেন আবারও ক্ষমতায় এসে দেশের গরিব মানুষদের এভাবে সাহায্য সহযোগীতা করেন।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শান্তি মনি চাকমা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পটিকে ক, খ, গ তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথমত  'যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ' প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ জেলার জন্য ৩ হজার ৮০১৭ জনের চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭০৪টি ঘরের বরাদ্দ পেয়ে ইতিমধ্যে সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ২৩০টি, মুকসুদপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ১৩৯টি, কোটালীপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৭৪টি, কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ২২৬টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপকারভোগীদের হাতে চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় আরো বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে বাকীদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। এ ছাড়া 'যার জমি নেই, ঘর নেই তাকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে পূনর্বাসন' প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৯১১ জনের চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও 'যার জমি আছে ঘরও আছে কিন্তু জরাজীর্ণ তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ' প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪৯ জনের চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে গোপালগঞ্জ জেলায় আর একটি পরিবারও গৃহহীন থাকবে না।

এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় 'যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ' প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর শরীফ পাড়ায় চাবি হসত্মানত্মর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শান্তি মনি চাকমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গোপীনাথপুর, শুকতাইল, চন্দ্রদিঘলীয়া ও পাইককান্দি ইউনিয়নের ৪৬ জন উপকার ভোগীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শান্তি আক্তার। এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরুন্নাহার বেগম, সদর উপজেলা প্রকল্প বাসতবায়ন কর্মকর্তা মো. মিরান হোসেন মিয়া, গেীনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, চন্দ্রদিঘলীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বি এম ওবায়েদ  হোসেন, পাইককান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানস্থলে নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের স্নেহা বেগম (৬৫) হাবিবুর রহমান, ময়না বেগম তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাদের আগে বসবাসের ঘর ভালো ছিল না। জরাজীর্ণ ঘর ছিল। বৃষ্টি আসলেই ঘরের মধ্যে সব ভিজে যেত। বস করতে অনেক কষ্ট হতো। এখন প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছে। বৃষ্টির দিনে ও শতে শান্তিতে বাস করা যাবে। এ জন্য আমরা সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি যেন দীর্ঘায়ু পায়।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাম্মি আকতার বলেন, 'যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ' প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২২৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে একটি করে টয়লেট রয়েছে। নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনরায় বাকীদের মাঝে এভাবে দেয়া হবে।



মন্তব্য