kalerkantho


বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবসের সৈয়দপুরে আলোচনা সভা

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি    

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৫৭



বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবসের সৈয়দপুরে আলোচনা সভা

বক্তব্য রাখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

আজ ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর ওপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বিউটিফুল সৈয়দপুর নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
 
বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক আমেনা কোহিনুর আলম, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আখতার হোসেন বাদল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম মাসুদ। 
 
সভায় সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল হক সভাপতিত্ব করেন। এতে আলোচক ছিলেন ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম সৈয়দপুর কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাখাওয়াৎ হোসেন খোকন।
 
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন শহীদ পরিবারের সন্তান মো. মহসিনুল হক মহসিন ও এ কে এম রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রমুখ।  আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মোস্তফা ফিরোজ।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ না হলে আমরা বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। তার ঐতিহাসিক ওই ভাষণেই গোটা বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীনের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে অংশে নিয়ে ৩০ লাখ তাজা প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। আর এই স্বাধীনতা পরিপূর্ণতা পেয়েছে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ওই দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন। 
 
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে বাঙালি জাতি পাকিস্তানিদের পরাজিত করার মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেন। আর স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতা বিরোধিরা নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ফলে দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বাধীনতা বিরোধী কিছু বিপথগামী সেনাদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যরা।

উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মরেননি, তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী। সবার মাঝে বেঁচে আছেন তিনি। আজকের ঐতিহাসিক দিনে ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করার তাগিদ দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন ২০১৮ সাল কঠিন সময়, এটা নির্বাচনের বছর। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। কোনভাবেই এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কোনো  অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না। বাঙালি জাতি বীরের জাতি, আমরা কখনও পরাজয় বরণ করতে পারি না মন্তব্য করে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে আর যাকেই মনোনয়ন দিবেন তার পক্ষে কাজ করে নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস@বায়নে কাজ করতে হবে। 

তিনি বলেন, দলে প্রতিযোগিতা ভালো। এতে নেতৃত্ব তৈরি হয়। কিন্তু সে প্রতিযোগিতা যেন অভ্যন্তরিন কোন্দলের সৃষ্টি না করে। এটি হলে দল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি ১৬ কোটি জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যাবে। তাই দেশের জনগনের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। 

অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধু ওপর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।                                                                    



মন্তব্য