kalerkantho


ত্রিশালে মামলাবাজ মুকুল চেয়ারম্যান কারাগারে

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:৫৮



ত্রিশালে মামলাবাজ মুকুল চেয়ারম্যান কারাগারে

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রভাবশালী নেতাদের নাম ব্যবহার করে উপজেলার বইলর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল সরকারী জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় গত বছরের ১২ নভেম্বর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুনসুর আহমেদ খান বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন করেন।

জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস নির্মাণের জন্য ১৯৯০ সালে রামপুর মৌজার ৩০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে একটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। অফিসের খালি জায়গার সীমানা ঘেষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দানকারী বইলর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভুমিদস্যু মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল দখল শুরু করে। ২০০২ সালে জনস্বাস্থ প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাকে এ ব্যাপারে প্রথম চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই চেয়ারম্যান জনস্বাস্থের ১০ শতাংশ জমি দখল করলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল তাকে ১৫টি চিঠি প্রদান করলেও বারবারই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জমি দখল অব্যাহত রাখের তিনি। সর্বশেষ গত বছরের ১০ নভেম্বর নতুন করে বিল্ডিং নির্মাণ করতে চাইলে প্রকৌশল অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি প্রেরণ করে। এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে জনস্বাস্থ্যের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন কাজ বন্ধের কথা বললে ভুমিদস্যু মুকুল চেয়ারম্যান তাদের বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল গালিগালাজ ও অনৈতিক আচরণ করে। শুনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন ও ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ করে দেন। পরে ১২ নভেম্বর জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুনসুর আহমেদ খান বাদী হয়ে মুকুল চেয়ারম্যান ও তার ছেলে শাহানশাহসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ত্রিশাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ বিজ্ঞ আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে মুকুল চেয়ারম্যানসহ তার ছেলেকে 
জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুকুল চেয়ারম্যান একজন দুর্নীতিবাজ, অশ্লীল বাক্যব্যবহারকারী মামলাবাজ চেয়ারম্যান। তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে জমি দখল করে। মামলাবাজ মুকুল চেয়ারম্যানের নামে বাদী ও বিবাদী মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বইলর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাব হোসেন জানান, মুকুল চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসাকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি।  

মামলার বাদী জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুনসুর আহমেদ খান জানান, আমাদের সরকারী জমি জোর পূর্বক দখল করে। আমরা বাধা নিষেধ করতে গেলে আমাদের উপর চরাও হয়ে অকথ্য ভাসায় গালাগাল করে। যার প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ত্রিশাল থানায় মামলা করি। সেই মামলায় বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে।

 



মন্তব্য