kalerkantho


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রফ্রন্ট্রের কর্মীকে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

বাকৃবি প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:২২



ছাত্রফ্রন্ট্রের কর্মীকে হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

গভীর রাতে ছাত্রীদের আবাসিক হল থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ খালেকুজ্জামান অনুসারী) এক কর্মীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রীদের আবাসিক বেগম রোকেয়া হল থেকে আফসানা আহমেদ ইভাকে বের করে দেয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে হলের প্রধান ফটকে আমরণ অনশন শুরু করেছে ওই ছাত্রী। এদিকে ছাত্রফ্রন্টের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে হল প্রভোস্টসহ সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সাথে বেয়াদবির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে ওই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেগম রোকেয়া হলের প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের জোরপূর্বক ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকের অনুষ্ঠানে প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের সাথে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য জোর করে ছাত্রলীগের নেত্রীরা। এ সময় ওই ছাত্রী ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এই ঘটনার জের ধরে সোমবার রাতে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানিয়া আফরিন সিন্থিয়া, ছাত্রলীগ কর্মী সাদিয়া আফরিন স্বর্ণা, ইলা, শিলা প্রমূখ ওই ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়। পরে হল প্রভোস্ট সাময়িকভাবে রোকেয়া হলের সম্প্রসারিত ভবনে থাকতে বললে সে অস্বীকৃতি জানায় এবং রাত ৩টা পর্যন্ত হলের ফটকে অবস্থান করে। এরপরে আজ সকাল ৮টার দিকে হলের প্রধান ফটকে আমরণ অনশন শুরু করলে সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী হলে থাকার দাবিতে আবার হলের প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে সাবেক প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর ওই ছাত্রীকে হলের ভিতরে নিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. রুবেল সহকারী প্রক্টরদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদেরকে পদত্যাগ করতে বলেন। এর আগেও ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। ওই ছাত্রী মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করলেও প্রভোস্ট কোন ব্যবস্থা নেননি।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন,‘আমি বেগম রোকেয়া হলের ২০১৬-১৭ সেশনের একজন আবাসিক ছাত্রী। আমি গত ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে যোগদানে অস্বীকৃতি জানাই। ওই দিন রাতে বেগম রোকয়ো হলে ছাত্রলীগকর্মীবৃন্দ আমাকে আলাদাভাবে ডেকে বলে, প্রথম বষের্র ছাত্রীদের ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাওয়া বাধ্যতামূলক এবং আমাকে আরো বলা হয় পরবর্তী কোন কর্মসূচিতে আমি যেন আরো ১০ জন ছাত্রী নিয়ে অংশগ্রহণ করি। এ প্রস্তাবে আমি রাজি না হলে আমাকে হল থেকে বের করে দেওয়া এবং আমার জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলারও হুমকি দেয়। আমি পরদিন (৫ জানুয়ারি) হল প্রভোস্টকে অভিহত করি। তারপরও ৬ জানুয়ারি রোকেয়া হল ছাত্রলীগ ছাত্রীদের সামনে ডেকে ৭ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ৭ তারিখে এ বিষয়ে আমি হল প্রভোস্টকে একটি লিখিত অভিযোগ করি। তারপরও প্রভোস্ট কোন ব্যবস্থা না নিলে রোকেয়া হলের শাপলা (বড় আপু) প্রভোস্ট ম্যামকে ফোন দিলে নিরাপত্তার জন্য আমাকে তার কাছে নিয়ে ৩০৯ নম্বর রুমে থাকতে বলে। গতকাল রাতে আবার (রাত সাড়ে ১১টার দিকে) ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে ৩০৯ নম্বর রুম থেকে ডেকে আনে এবং হলের আন্টিদের ( হলের আয়া) আমার বেডিং পত্র হলের বাহিরে রেখে আসতে বলে। এই লিখিত বক্তব্য কালের কণ্ঠের কাছে সংগৃহীত আছে।

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, এই ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অতিথি কক্ষে রাতে ডেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের দেশের সঠিক ইতিহাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আদব কায়দা শেখানো হয়।

এই বিষয়ে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম ওই ছাত্রীর আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে ওই ছাত্রীকে সম্প্রসারিত ভবনে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে ছাত্রফ্রন্টের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে হল প্রভোস্ট ও সিনিয়র ছাত্রীদের সাথে বেয়াদবির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুর ১২টার দিকে হলের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তানিয়া আফরিন সিন্থিয়ার নেতৃত্বে হলের প্রধান ফটকে মানববন্ধন করে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রী। এই সময় তাঁরা ইভাকে হল থেকে বের করে দেওয়ারও দাবি জানান। 

 



মন্তব্য