kalerkantho


শেরপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

শেরপুর প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:১৫



শেরপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

শেরপুরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্র ‘গারো দা’ দিয়ে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোসলেহ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম সোহেল রানা (৩৭)। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার মাধবপুর গ্রামের ছাবেদ আলীর ছেলে। 
 
মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু  জানান, রায়ে একইসাথে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে খুশী।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে অতিরিক্ত পিপি জানান, শ্রীবরদী উপজেলার মাধবপুর গ্রামের সোহেল রানার সাথে একই উপজেলার নবীনপুর গ্রামের আফরোজ আলীর মেয়ে আফরোজার বিয়ে হয়। প্রায় ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুই সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বনিবনা না হওয়া সোহেল রানা স্ত্রী আফরোজাকে নানা নির্যাতন করত। এরই একপর্যায়ে ২০১১ সালের ২৭ আগস্ট স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল রানা শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসেন। তার দুই দিন পর ২৯ আগস্ট ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ‘গারো দা’ দিয়ে স্ত্রী আফরোজার গলায় জবাই করেন স্বামী সোহেল রানা। গুরুতর অবস্থায় আফরোজাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শ্বশুর বাড়ির লোকজন সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

এ ঘটনায় নিহতের পিতা আফরোজ আলী বাদী হয়ে সোহেল রানা ও তার বাবা-মাসহ চারজনকে আসামি করে  শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতে সোহেল রানা স্ত্রী হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীবরদী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম নিহতের স্বামী সোহেল রানাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। বাদী, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৮ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত ঘাতক সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মোরাদুজ্জামান মামলাটি পরিচালনা করেন।



মন্তব্য