kalerkantho


জগৎজ্যোতি পাঠাগারে সান্ধ্য আড্ডায় বিজ্ঞানী জহিরুল আলম সিদ্দিকী

বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০৯



বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্রের উদ্ভাবক অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত সুনামগঞ্জের তরুণ বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলম সিদ্দিকীকে নিয়ে গত রবিবার রাতে সান্ধ্য আড্ডায় মেতেছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার সুধীজন। শহিদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে অনুষ্ঠিত এই আড্ডায় প্রায় ঘণ্টা খানেক বক্তব্য রাখেন তিনি। তার বক্তব্যের পুরোটা জুড়েই ছিল বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার গবেষণাকর্ম। তিনি  বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও তিনি তাঁর ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। এটা বাজারে আসলে তিনি এ থেকে কোনো লাভ নিবেন না বলেও ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে এই যন্ত্র উদ্ভাবনের আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে চলছে বলেও জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগার কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সান্ধ্য আড্ডায় সুধীজনের উদ্দেশে অস্ট্রেলিয়ান গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই তরুণ বিজ্ঞানী তাঁর শৈশব, কৈশর, যৌবনের নানা ঘটনা-ঘাত-প্রতিঘাতের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বিদেশে তাঁর পেশাগত জীবন ও দেশভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর কথায় আবেগাপ্লুত হন সুধীজন। তার জীবনের পরতে পরতে নানা ঘাত প্রতিঘাতের স্মৃতিচারণের সময় তিনি নিজেও কঁাদেন এবং অন্যদেরও কাঁদান।

জহিরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের মৌলিক অর্জন। এটাকে অস্বীকার করার উপায় কারো নেই। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করে তাদের পিছনে রাষ্ট্রের প্রচুর ব্যয় হয়। কিন্তু তারা বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে গিয়ে সেটা ভুলে যায়। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ১০টির মতো আবেদন পাই যারা পিএইচডি করতে চায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা এই দেশ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে।

তিনি বলেন, তারা উন্নত জীবন যাপনের জন্য স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যাক ভালো কথা। কিন্তু দেশের উন্নয়নে তাদের তেমন কিছু করতে দেখা যায় না। দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে তাদের কোন ভূমিকা নেই। বরং দেশ থেকে সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশে নিয়ে যান তারা। এই মানসিকতা থেকে বিদেশে বসবাসরত বিশিষ্ট বাংলাদেশিদের সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগড়তভাবে শতভাগ সৎ। সারাজীবন সৎ থাকার চেষ্টা করব। ক্যানসার উদ্ভাবন যন্ত্র বাজারে আসলে আমি এটা থেকে কোনো প্রফিট নেব না।

শিক্ষার উন্নয়নেই সেটা ব্যয় করব। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য ভাবতে হবে। একা রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে লাভ নেই। রাজনীতিবিদরা একা সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবেন না। তিনি মেধাবী তরুণদের দেশে ধরে রাখতে সরকারকে গবেষণাখাতে বিনিয়োগ ও ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রিক গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।

তাঁর ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্রের উদ্ভাবন বিষয়ে বলেন, আমিমূলক রসায়নবিদ। কিন্তু আমার এক আত্মীয় ক্যান্সারে মারা যাবার পর আমি ভাবতে থাকি আসলে কিভাবে সহজে ক্যনসার শনাক্ত করা যায়। সেটা নিয়ে ভাবতে গিয়েই আমি এই কাজ করি। ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্র উদ্ভাবনের পর বিশ্বের নামি দামি জার্নালে আমার খবরে বলা হয়েছিল 'বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর ক্যান্সার শনাক্তকরণ যন্ত্রের উদ্ভাবন'। আমি দেশকে উপস্থাপন করতে পেরে আনন্দিত।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমি একবার বাংলাদেশি পাসপোর্টে একটি আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী মেলায় ডেলিগেট হিসেবে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম পৃথিবীর সকল দেশের ডেলিগেটের দেশের পতাকা ওড়ছে বাংলাদেশ ছাড়া। আমি তখন আয়োজকদের বলি আমি অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে আসলেও আমি বাংলাদেশের নাগরিক। তাই আমার দেশের পতাকাও ওড়াতে হবে। পরে আয়োজকরা আমার কথা শুনে বাংলাদেশের পতাকা টাঙ্গান। এভাবেই আমি যেখানেই যাই আমার দেশকে সঙ্গে নিয়ে যাই বলে মনত্মব্য করেন তরুণ এই বিজ্ঞানী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী শীলা রায়, মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ, পৌর মেয়র আয়ূব বখত জগলুল, জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ, সাংবাদিক পঙ্কজ দে, শামস শামীম, প্রভাষক মশিউর রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী ড. জহিরুল আলমের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী গ্রামে।



মন্তব্য