kalerkantho


অবশেষে শুরু হচ্ছে কক্সবাজারের রেল লাইনের কাজ

৬ মৌজার ২১০ একর জমির দলিল হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:২৪



অবশেষে শুরু হচ্ছে কক্সবাজারের রেল লাইনের কাজ

ছবি: কালের কণ্ঠ

 দীর্ঘ সাত বছরের প্রতীক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার থেকে রামু-ঘুনদুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হচ্ছে। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের রেলপথের এই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। আজ সোমবার দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল রেল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের সদর উপজেলার জমির দখল হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন কৃষি অফিসের নারকেল বাগান ঘেষে প্রস্তাবিত ঝিলংজা রেল স্টেশন ভিত্তি প্রস্তর চত্বরে বহুল প্রত্যাশার রেল লাইনের জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম দিনেই সরকারের অগ্রাধিকার এই প্রকল্পের কক্সবাজার সদর উপজেলার ছয়টি মৌজার ২১০.৪২৬০ একর জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়। সদর উপজেলায় জমির অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ খাতে সরকারের মোট বরাদ্দ আটশত ৮৪ কোটি ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় জমির দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলাদেশ। আর কক্সবাজারবাসীর স্বপ্ন ছিল রেল লাইন। যাতে করে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা কক্সবাজারের অপার সাগর-সৈকতের সেৌন্দর্যয দেখতে আসবে। শুধু তাই নয়- সরকার কক্সবাজারের জন্য বড় বড় প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাত দিয়েছেন। অচিরেই কক্সবাজার হবে বাংলাদেশের জন্য শ্রেষ্ঠ জায়গা।

তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের প্রতিটি চেক ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে। ক্ষতিপূরণের টাকার ব্যাপারে কেউ তৃতীয় পক্ষের কাছে আর্থিক লেনদেন করবেন না। দালালের কাছে যাবেন না। নিয়ম মেনে আবেদন করলে প্রকৃত মালিকগণ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো দালাল কিংবা তৃতীয় পক্ষের তদবির সহ্য করা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে- রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক মুফিজুর রহমান বলেন, রেলওয়ে প্রকল্প কক্সবাজারবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প। অধিগ্রহণের জমি পাওয়ায় আজ থেকে রেল লাইন বাস্তবায়নের চাকা ঘুরল। কক্সবাজারের মানুষ বলছে আমার জমি পড়ুক, তবুও রেল লাইন চাই। প্রস্তাবিত ঝিলংজা রেল স্টেশন হবে এশিয়ার মধ্যে সর্ববৃহৎ।

কক্সবাজারের ঐত্যিহ্যর প্রতীকি ঝিনুকের আদলে গড়া নান্দনিক সৌন্দর্যের সাত তলা ভবনটির আয়তন হবে ৫০ হাজার স্কয়ার ফুট। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজি আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসাইন ২১০.৪২৬০ একর অধিগ্রহণকৃত ভূমির দলিল রেলওয়ের উপ-প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল কালামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক- লালন দত্তের হাতে অধিগ্রহণের জমির ক্ষতিপূরণের ২৫ লাখ ৫ শত টাকার ও উক্যথিন মংসাবিনের ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকার পৃথক চেক অনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সদর, রামু ও চকরিয়ার ৩৩টি মৌজা থেকে রেল লাইনের জন্য এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।



মন্তব্য