kalerkantho


রংপুরে শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রংপুর অফিস   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:০০



রংপুরে শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর অমানুষিক নির্যাতনসহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারিরা। গত শুক্রবার সন্ধায় নগরীর বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

আজ সোমবার বেলা ১২টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপি চলা মানববন্ধনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পাশ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও অংশ নেন। পরে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষকরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, নগরীর বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৮০০। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০১৭ সালের ১ জুন থেকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষক মতলুবার রহমানকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিদ্যালয়কে গতিশীল রাখার লক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক রুহুল মোয়াজ্জেমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মতলুবার রহমান বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে থাকেন। সুষ্ঠুভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার এক পর্যায়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক মতলুবার রহমানের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা দেশিয় অস্ত্রসহ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল মোয়াজ্জেমের বাসায় ঢুকে তাকে জিম্মী করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা বাসার জিনিসপত্র ভাংচুর করে এবং তাকে মারধর করে বাসার বাইরে নিয়ে আসে। 

এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে টেনে হেঁচড়ে বুড়িরহাট গরুরহাটের মাঠে নিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম, কমল চন্দ্র রায়, শিক্ষক প্রতিনিধি আফিয়া হাসনাইন প্রমুখ। 

তারা বলেন, বিনা কারণে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে কোমরে দড়ি বেঁধে নির্যাতন করা শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। তাছাড়া নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক মতলুবার রহমানের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের কারণে এই বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তারা শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিচার দাবি করেন।



মন্তব্য