kalerkantho


শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের কৃষকের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:৫৭



শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের কৃষকের

শীত মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কৃষকরা সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভাল ফলন ও বেশী দাম পাওয়ায় সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে তারা। অনেকে বছরের বার মাস বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে ।
জানা যায়, শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জ। কিন্তু পর পর দু’বার বন্যায় হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা সবজি চাষ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাজারে সবজির দাম ভাল থাকায় দিন দিন সবজি চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। এ কারণে জেলার হাজার হাজার বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মুলা, গাজর, পালন শাক, সিম ও বেগুন। কৃষকরা সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি কাজিপুর, শাহজাদপুর রায়গঞ্জ, সলঙ্গা, উল্লাাপাড়া ও কামারখন্দ উপজেলায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। শিয়ালকোল, ভদ্রঘাট, পিপুলবাড়িয়া, সিরাজগঞ্জ রোড, সলঙ্গা, চান্দাইকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সবজির হাট বসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে হাট থেকে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক পাইকার সরাসরি জমি থেকে সবজি কিনে নিয়ে যায়। আবার অনেক কৃষক নিজের জমির উৎপাদিত সবজি নিজেই বাজারে নিয়ে বিক্রি করছে।
বহুলি গ্রামের কৃষক আবুল কালাম জানান, সবজি চাষ তার ভাগ্য খুলে দিয়েছে। আগে যখন ধান-পাটের চাষ করতেন তখন তার ঋণ পরিশোধ হতো না। আর এখন সবজি চাষ শুরু করায় সংসারে বাড়তি আয় হচ্ছে। সারা বছরের খরচ বাদেও বাড়তি টাকা থাকছে।
ভদ্রঘাট গ্রামের কৃষক আবু মুছা জানান, এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি বাড়তি টাকায় তিনি ২০ ডেসিমাল জায়গা ক্রয় করেছেন।
জগতগাতী গ্রামের কোরবান আলী জানান, একসময় তিনি মানুষের বাড়ি কামলা খাটতেন। সেখান থেকে এসে এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। এখন তিনি সবজি বিক্রি করে দুই বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। খোকশাবাড়ি এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে প্রায় এক লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। আর এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মত।
সলঙ্গা ফেওকান্দি গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে উন্নয়ত জাতের টমোটো আবাদ করা হয়েছে। বাজারে ভাল চাহিদা থাকায় খরচ বাদে লক্ষাধিক টাকা থাকবে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলি জানান, বৃষ্টির কারণে জেলায় সবজির ভাল ফলন হয়েছে। পাশাপাশি দাম ভাল পাওয়া কৃষকের আরো আগ্রহ বাড়ছে সবজি চাষে। কৃষকদের সবজি চাষে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সূত্র-বাসস



মন্তব্য