kalerkantho


আনন্দ ভ্রমণ বিষাদে পরিণত কারারক্ষী পরিবারে

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:৫১



আনন্দ ভ্রমণ বিষাদে পরিণত কারারক্ষী পরিবারে

পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার আনন্দ ভ্রমণে বের হয়ে দুর্ঘটনার কবলে  পড়েছে বরগুনার কারারক্ষী মো. শাহিনুর ইসলাম (৩৫) ও সুইটি বেগম (৩০) দম্পতি। আজ শুক্রবার দুপুরে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌরসভার নবীনপুর রাস্তার মোড়ে দুর্ঘনায় নিহত হয়েছেন শাহিনুর। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী শাহিনুর ইসলাম।

নিহত কারারক্ষীর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে।

আজ শুক্রবার দুপুরে বরগুনা জেলা থেকে সস্ত্রীক মোটরসাইকেলযোগে কুয়াকাটা ভ্রমণে বের হন শাহিনুর ইসলাম। পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহতের স্ত্রী আহত সুইটি বেগমকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বামীর লাশ গ্রহণের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেল সুপার এ জি মাহামুদ।

বরগুনা জেল সুপার এ জি মাহামুদ জানান, আজ শুক্রবার সকালে বরগুনা থেকে নিহত কারারক্ষী শাহিনুর ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কুয়াকাটায় ঘুরতে বের হন। তাঁরা  কুয়াকাটায় পৌঁছার আগে নবীনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনায় পড়েন। জেল সুপার নিজেও স্বপরিবারে একটি মাইক্রোবাসে কুয়াকাটায় আসেন।

কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে  হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে  প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।'

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মনিরুজ্জামান আরো বলেন, 'মোটরসাইকেল দ্রুতগতি থাকার কারণে রাস্তার মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নিয়ন্ত্রণ পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে শহিনুর ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার স্ত্রী সুইটি ২০-২৫ হাত দূরে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাদেরকে  উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেলে শাহিনুর ইসলাম মারা যান।

জেল সুপার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'নিহত কারারক্ষী শাহিনুর ইসলাম গত ১২ বছর ধরে বরগুনা জেলা কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আগামীকাল শনিবার তার মরদেহ বরগুনা কারাগার চত্বরে নিয়ে বিধি মোতাবেক সকল কার্য সম্পাদন করে জানাজা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।' 

 



মন্তব্য