kalerkantho


গর্ভপাতের সময় ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:০৯



গর্ভপাতের সময় ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ধর্ষণের পর ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা এক স্কুলছাত্রী গর্ভপাতের সময় মারা গেছেন। নিহত স্কুল ছাত্রীর লাশ গুম করার সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোসাইরহাট থানা পুলিশ। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহত ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের বাসীন্দা এবং ৯৪নং চর মহিষকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর পঞ্চম শ্রেণি পাশ করেছিল।

গোসাইরহাট থানা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের মৃত সাবুত আলী মাদবরের ছেলে নুর ইসলাম মাদবর (৬০) একই গ্রামের প্রতিবেশি ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্ন ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতেন। এক পর্যায়ে স্কুলছাত্রীটি ছয় মাসের অন্তসত্ত্বা হয়ে পরে। এ ঘটনা ধামা চাপা দিতে গত সোমবার নুর ইসলাম মাদবরের স্ত্রী আয়শা বেগম ও বোন নাসিমা বেগম মিলে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারকে বেড়ানোর কথা বলে তাকে একই উপজেলার কুচাপট্রি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাজেদা বেগম ধষিতা মেয়েটিকে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য তার নিজ বাড়ি একই উপজেলার কোদালপুর বুলুসরদার পাড়া নিয়ে যায়। গর্ভপাত করার সময় মৃত্যু হয় মেয়েটির। পরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাজেদা বেগম ও তার ভাই আমিরুল ওরফে আমিন ছৈয়ায়ল মিলে নিহতকে গুম করার উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে কুচাপট্রি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পূর্বপার্শ্বে মাটিচাপা দেয়ার জন্য গর্ত করছিল। 

এ সময় ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয়রা ঘটনা জানতে পেরে গোসাইরহাট থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং কুচাপট্রি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাজেদা বেগম ও তার ভাই আমিরুল ওরফে আনি ছৈয়ালকে আটক করে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে তাসলিমার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর থেকে নুরুল ইসলাম মাদবর ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে গোসাইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ এহসানুল ইসলাম বলেন, মরদেহের শরীরের কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং বাচ্চাটি বাইরে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে বাচ্চাটির বয়স হবে ৭ থেকে ৮ মাস। মেয়েটির কিছু অর্গান, ব্লাড সুগার ঢাকায় পরীক্ষার জন্য এবং বাচ্চার চুল, নখ, মাথা ও বুকের হাড় ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
  
শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সাকেল) থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে একটি লাশ গুম করার চেষ্টা চলছে এমন খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমরা ঘটনাস্থলে যাই। মরদেহটি উদ্ধার করি এবং ঘটনাস্থল থেকে মাজেদা বেগম ও তার ভাই আমিরুল ওরফে আমিন ছৈয়ালকে আটক করি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 



মন্তব্য