kalerkantho


সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:৩১



সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের ট্রেন

ফাইল ছবি

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের আন্ত:নগর ট্রেন। এতে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে যাত্রীদের মাঝে। আজ বুধবার দিনভর এমন অবস্থায় চলাচল করে ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রংপুরগামীসহ প্রায় সব আন্ত:নগর ট্রেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-খুলনা রুটের আন্ত:নগর ট্রেন চিত্রা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ায় এ শিডিউল বিপর্যয় ঘটে বলে রেলওয়ে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। 

তবে ওই দুর্ঘটনার আগেও গত কয়েকদিন ধরে এই রুটগুলোতে অন্তত দেড় থেকে দুই ঘন্টা করে ট্রেন দেরিতে যাতায়াত করছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু দুর্ঘটনার পরে আজ দিনভর নেমে আসে সর্বোচ্চ সিডিউল বিপর্যয়। এর বাইরেও উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সব ধরনের ট্রেনই বিলম্বে যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে।  

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম মোস্তোফা কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন। কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দেরীতে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে। একইভাবে বিকেলে ৩টা ৪০ মিনিটে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটিও ছেড়ে যায় সাড়ে ৫ ঘন্টা দেরিতে। ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর ট্রেনগুলোও দেরিতে পৌঁছে রাজশাহীতে। বুধবার ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল ভোর চারটা ৪০ মিনিটে; কিন্তু সেটি পৌঁছে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে।

এদিকে খুলনা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পৌছে ১টা ৪০ মিনিটে। একই হারে অন্যান্য ট্রেনগুলোও অন্তত দেড় ঘন্টা করে দেরি করে যাতায়াত করছে গন্তব্যস্থলে।   

ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ওঠা যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, কপোতাক্ষ ট্রেনটি আজ দেড় ঘন্টা দেরি করেছে। রাজশাহীতে রোগী দেখানোর জন্য ডাক্তারের কাছে এসেও কোনো লাভ হয়নি। ফলে আবার বাড়ি চলে যাচ্ছি। আরেক যাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, স্টেশনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ট্রেনের সন্ধান মিলছিল না। শেষ ৫ ঘন্টা দেরিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ে। ওই ট্রেনে চড়ে সাদুল্লাহপুর থেকে রাজশাহীতে আসি। তবে স্টেশনে তীব্র শীতের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। 

আরেক যাত্রী আজিজুল ইসলাম বলছিলেন, গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা-রাজশাহী রুটের ট্রেন চলাচল দেরিতে করছিল। অন্তত দুই ঘন্টা দেরি করে ট্রেন চলাচল করছিল। তবে মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার পরে সবচেয়ে বেশি দেরি করে ট্রেন চলাচল করছে এ রুটে। 
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ময়েন উদ্দীন বলেন, বুধবার ভোর থেকেই প্রতিটি ট্রেন নির্ধাতির সময়ের অধিক বিলম্বে পৌঁছেছে। 


মন্তব্য