kalerkantho


কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:৫৫



কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি : কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতাকর্মীরা। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা শহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপি ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলা যুবলীগের কমিটি বহাল থাকা অবস্থায় অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্র কর্তৃক শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম বারীকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের একটি উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর কমিটি ঘোষণার ওই পত্রে স্বাক্ষর করেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদার অভিযোগ করে বলেন, ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম বারী এবং যুগ্ন আহ্বায়ক মিনহাজুল ইসলামের যুবলীগে কোন সদস্যপদ নেই। কমিটির অপর যুগ্ন আহ্বায়ক মোশারফ হোসেনের নামে দুটি ছিনতাই মামলা থাকায় তাকে বহিস্কার করা হয়েছিল যুবলীগ থেকে। এছাড়া মোশারফ হোসেনের চাচা উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার পরিবারের সকল সদস্য বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন। অপর যুগ্ন আহ্বায়ক মিনহাজুল ইসলামের আপন চাচা হাসান আলী উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ছিলেন। সে সময়ে দুটি নাশকতার মামলায় জেল খেটেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা জামায়াতের একজন রোকন।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী চৌধুরী বলেন, জেলা কমিটির নির্দেশে আমরা উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের কাউন্সিল সম্পন্ন করেছি। এখন উপজেলা কমিটির কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। এ অবস্থায় এখানে কিভাবে আহবায়ক কমিটি দেওয়া হলো তা আমাদের বোধগম্য না। 

তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকা সত্বেও ওই কমিটি বাতিল বা স্থগিত না করে অবৈধ অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। 

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ফণিভূষণ মজুমদারের সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন- সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বাণী চৌধুরী, সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, কোষাধ্যক্ষ রশিদুল ইসলাম, যুগ্ন সম্পাদক আশুতোষ রায়, রণচণ্ডী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান, বড়ভিটা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মাগুড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান প্রমুখ।

এসময় অবিলম্বে ওই আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানান বক্তারা। অন্যথায় আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকার ঘোষণা দেন তারা। শেষে শহরের বাবু টকিজের সামনে সড়কে কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরী ও দপ্তর সম্পাদক আনিস মণ্ডলের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন নেতাকর্মীরা। 

এব্যাপারে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ বলেন, সেখানে যুবলীগের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি কাজ করছে। এরপর সেখানে আহ্বায় কমিটি দেওয়ার বিষয়টি জেলা কমিটিকে অবগত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে কথা বলার জন্য সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম বারীকে একাধিকবার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

 



মন্তব্য