kalerkantho


কুষ্টিয়ার 'সর্বভুক ইউএনও' বদলি হয়েও আবার অফিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:০৬



কুষ্টিয়ার 'সর্বভুক ইউএনও' বদলি হয়েও আবার অফিসে

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবাদত হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তরের চার দিন পরও গতকাল সোমবার সকালে অফিস করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনি অফিসে বসে অনেক ফাইলপত্রে আগের তারিখ দিয়ে স্বাক্ষর করেন। অনেক ফাইলে নতুন করে নোট লিখে অধস্তনদের দিয়ে স্বাক্ষর করান। কুষ্টিয়ায় কার্যকালের দুর্নীতি ঢাকতে গতকাল এসব করেছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। এর আগে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের কর্মকর্তারা তাঁকে ইউএনওর হলরুমে বিদায় সংবর্ধনা জানান। তার পরই তিনি দপ্তরে তাঁর আগের সিটে বসে কাজ করেন।

উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, অফিসে বসে তিনি 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্প ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফাইলসহ বেশ কয়েকটি ফাইলে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের ফাইল থেকে শিট বের করে ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে নোট লিখে তিনি সেখানে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া একটি ১২ লাখ টাকার বিল স্বাক্ষর করার জন্য জোরজবরদস্তি করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা করেননি। এতে তিনি ওই সব কর্মকর্তার ওপর খেপে যান।

এ ছাড়া তাঁর বিদেশ সফরে অনেক টাকা খরচ হয়েছে মর্মে এক কর্মকর্তাকে ডেকে বলেন, 'আমার তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আপনি আমাকে ওই টাকাটা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে সমন্বয় করে নিবেন।' সেই কর্মকর্তাও তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি।

উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, লটারি করে দোকান বরাদ্দের কথা থাকলেও ত্রাণের টিন দিয়ে নির্মাণ করা উপজেলা পরিষদের সামনে আলোচিত সেই নারী মার্কেট গতকাল সোমবার সকালে উদ্বোধন করার ঘোষণা দেন ইবাদত। পরে সেটি বিকেল ৫টায় হবে বলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দিয়ে সাইনবোর্ড তৈরি করান। কিন্তু জেলা প্রশাসক তাঁর অনৈতিক কাজে সমর্থন না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি সেটি করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে গত ১৪ ডিসেম্বর ইবাদত হোসেনকে খুলনার দাকোপে বদলি করা হয়। এরপর তিনি তদবির করে সেটি ২১ ডিসেম্বর তাঁর নিজ জেলার পাশে যশোরের চৌগাছায় করে নেন। অনিয়ম ও সর্বসাধারণের সঙ্গে তাঁর অশোভন আচরণ নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠ কার্টুনসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২৭, ২৯, ৩০ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি সংবাদ প্রকাশ করে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কুষ্টিয়া ছাড়েননি।



মন্তব্য